মাস ছয়েক শুনানি শেষে ফৌজদারি মামলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেছে নিউইয়র্ক আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সাজার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ১১ জুলাই। রায়ে তার কারাদণ্ড হতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে রোববার ট্রাম্প বলেছেন, মামলার রায়ে তার জেল কিংবা গৃহবন্দিত্বের আদেশ এলে তিনি তা মেনে নেবেন। কিন্তু মার্কিনিদের পক্ষে তা মেনে নেওয়া কঠিন হবে। তারা সহ্যের শেষ সীমায় চলে যেতে পারে।
ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার ঐতিহাসিক ঘুষ মামলার রায় নিয়ে এসব কথা বলেন এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তার জেল সমর্থকদের সহ্যের শেষ সীমায় (ব্রেকিং পয়েন্ট) নিয়ে যেতে পারে বলে ওই সতর্কবার্তা দেন। রোববার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের আদালতে দুই দিনের আলোচনার পর ১২ জুরি ট্রাম্পকে পর্নো তারকাকে দেওয়া ঘুষের মামলায় ৩৪টি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করেন।
এদিকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার এক দিন পরেই বিপুল অর্থমূল্যের সম্পদ হারিয়েছেন সাবেক মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শুক্রবার দিন শেষে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের শেয়ারের দাম কমে যায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এই কোম্পানিতে যেহেতু সাবেক প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে বেশি শেয়ার রয়েছে, তাই তার ক্ষতিই হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
শেয়ার বাজারের লেনদেন শেষে ঐ কোম্পানিতে ট্রাম্পের শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৫৫০ কোটি ডলার। ঠিক এক দিন আগে ঐ শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। অর্থাত্ এক দিনেই মূল্যমান কমেছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার।
ট্রাম্প মিডিয়ার আর্থিক পরিস্থিতি এখনো সাফল্যের মুখ দেখেনি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই কোম্পানির লোকসান ২১ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ সময়ে কোম্পানির আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ ডলার।
এছাড়া গত বৃহস্পতিবার ন্যাসডাক শেয়ারবাজার বন্ধের সময় ট্রাম্প মিডিয়ার তার শেয়ারের দাম ছিল ৫৯০ কোটি ডলার। কিন্তু গতকাল একপর্যায়ে তার শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৫৫০ কোটি ডলার। পরে দাম খানিকটা বাড়ে।
২০০৬ সালে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এই সম্পর্ক ফাঁস না করতে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ঐ পর্নো তারকাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া ঐ অর্থ দেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ট্রাম্প তার ব্যাবসায়িক নথিপত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ আছে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে।
মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট কে এই ক্লদিয়া
প্রথমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে নিবন্ধন করলেন নারী প্রার্থী