পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই চলে অবৈধ ইটভাটা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ১১:৪০ পিএম

আগামীকাল বুধবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও রোধ করা যাচ্ছে না পরিবেশ দূষণ। পরিবেশ দূষণে বিপর্যস্ত রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে গড়ে উঠা রূপগঞ্জ উপজেলা। এর অন্যতম কারণ অপরিকল্পিতভাবে কলকারখানা গড়ে তোলা, ইটিপি ছাড়া বর্জ্য নিষ্কাশন, অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি। ইটভাটার কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে পরিবেশ দূষণ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ইটভাটার কোনো প্রকার অনুমতি না থাকার পরও পরিবেশ অধিদপ্তর এগুলো বন্ধে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় রূপগঞ্জে ৪০টি ইটভাটা রয়েছে। আর তালিকার বাইরে আছে আরও ৮৫টি। এসবের মধ্যে মাত্র চারটির বৈধতা রয়েছে। প্রায় দুই যুগ ধরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে সেখানে আর আগের মতো ফসল হয় না। এখানকার ফসলের মাটি গিলে খাচ্ছে ইটভাটাগুলো। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায বাতাসে মিশে গিয়ে পরিবেশকে ব্যাপকভাবে ক্ষতি করছেন। এ সকল বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নির্বিকার।

সরেজমিন দাউদপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ। নদ-নদীর তীর যেদিকে চোখ যায়, শুধুই সারি সারি ইটের ভাটা। স্থানীয় নুরুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দেবই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজীরবাগ মাদ্রাসা ও খাস কামালকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বাড়িঘর ঘেষেও রয়েছে ইটভাটা। সেখানকার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। আর বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষিজমি। শুধু দাউদপুর ইউনিয়ন নয়। রূপগঞ্জের ভোলাব ইউনিয়ন, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন, ভুলতা ইউনিয়ন ও তারাব পৌরসভায় গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। কাঞ্চন পৌরসভার  বিরাব এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সড়কের  পাশে ফসলের মাঠজুড়ে নদীর জায়গা দখল করে কেবিএম ব্রিকস, এআরবি ব্রিকস ও পাশেই এআরই ব্রিকস নামের ইটভাটা বিআইডব্লিউটিএ জায়গা দখল করে তৈরি করছেন। ইটভাটায় কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির কাজ চলছে রীতিমতো। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব পোড়ানো হয় সেখানে। এতে বাতাস দূষিত হয়ে শ্বাসকষ্ট, চর্ম ও হাঁপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। আবার লোকালয় ও নদী থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে ইটখোলা করার নিয়ম থাকলেও কেউই তা মানছেন না। কৃষি জমিতে ইটখোলা তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারও তোয়াক্কা করছেন না কেউ।

রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নূর বলেন, ইটভাটাগুলোর কারণে ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে। আগে বিঘায় এখানে ধান উৎপাদন হতো ৩০ মণ। এখন বিঘায় ২৫ মণ উৎপাদন হয়।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভী ফেরদৌস বলেন, কলকারখানার বর্জ্য ও ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের ওপর তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। লোকজন শ্বাসতন্ত্র, ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়। অতিরিক্ত দূষিত বায়ু সেবনে গর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।

রূপগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন গ্রুপের এডমিন মাহবুব আলম প্রিয় বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলা কয়েকটি ইটভাটা বাদে সবগুলো ইটভাটার অবৈধ। এসকল ইটভাটা গুলো থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এক থেকে দেড় লাখ টাকা মাসোয়ারা নেন। এছাড়া কলকারখানার যে চিমনিগুলো রয়েছে। যেগুলোর চিমনি ৫০ ফুট থাকার কথা থাকলেও রাখা ১৫-২০ ফুট উচ্চতায়। কারখানা মালিকরা খরচের কথা ভেবে ইটিপি না চালিয়ে বর্জ্য নিষ্কাশন করে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের যথাযথ দৃষ্টি কামনা করছি। আর পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সচেতন হতে হবে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, বেশিরভাগ ইটভাটাই অবৈধ। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, এ ব্যাপারটি পরিবেশ অধিদপ্তর মনিটরিং করছে। তাদের সাথে আমরাও আছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত