জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা উন্নয়নে কাজ করে আসছে। "বিশ্ব পরিবেশ দিবস" উপলক্ষে, পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা এবং পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নিপসম একটি দুই দিন ব্যাপী কার্যক্রম আয়োজন করেছে ।
এই কার্যক্রম শুরু হয় ৫ই জুন, সকাল ৯টায় নিপসম অডিটোরিয়ামে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা,। তিনি নিপসম প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করে। তন্মধ্যে একটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, যা কমিউনিটিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের গুরুত্ব তুলে ধরে এবং একটি জনসচেতনতামূলক র্যালী, যা পরিবেশ সংরক্ষণে কমিউনিটি অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে এবং পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, যা বনায়নের প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়। এই কার্যক্রমটি অংশগ্রহণকারীদেরকে গাছ লাগিয়ে সরাসরি পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। শেষে একটি জনসচেতনতামূলক নাটক প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের পরিবেশগত উদ্বেগ এবং স্থিতিশীলতা অনুশীলনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
সহযোগী অধ্যাপক এবং নিপসম-এর পেশা ও পরিবেশ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মো. শফিউর রহমান পরিবেশগত জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে একটি মূল বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তৃতায় দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কর্মক্ষেত্রে পরিবেশগত ঝুঁকির প্রভাবগুলিকে তুলে ধরা হয় এবং টেকসই উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক নীতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, এমপি, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিবেশগত সমস্যাগুলি সমাধানে সম্মিলিত পদক্ষেপের উপর জোর দেন। তিনি পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারন জনগনের সামগ্রীক অংশগ্রহনের জন্য আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান ১৯৭০ সালের বন্যার বিধ্বংসী প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ডা. শামিউল ইসলাম, পরিচালক, নিপসম,শুরুতেই সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন, যিনি স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭৪ সালে নিপসম প্রতিষ্ঠার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধশালী সমাজের জন্য জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সমুন্নত রাখা অপরিহার্য এবং স্বাস্থ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য সক্রিয় কমিউনিটি অংশগ্রহণ অতীব জরুরী ।
নিপসমের "বিশ্ব পরিবেশ দিবস" উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনের এই অনুষ্ঠান কমিউনিটির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে, পরিবেশগত স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি আরও বৃহত্তর প্রতিশ্রুতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।
আর গান গাইতে পারবেন না তাহসান?
দুদকে যাচ্ছেন না বেনজীর আহমেদ