অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০২:০২ এএম

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তৃতীয়পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে। নিশ্চিত হয়েছে ২০২৭ এশিয়ান কাপে খেলাও। বৃহস্পতিবার ম্যাচটা ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ঠিক ১৬০ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষে। তারপরও এক রত্তি ছাড় দেওয়ার প্রবণতা নেই অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ গ্রাহাম আরনল্ডের। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বে আজ দুদল ফিরতিপর্বে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। স্বাগতিকরা দুর্বল বলে সেরাদের বিশ্রাম দেওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই অভিজ্ঞ কোচের। বরং ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছ থেকে আলাদা কিছুর প্রত্যাশা করছেন তিনি।

বাছাইপর্বের সুবাদে আজ চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের দ্বিতীয়পর্বে লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হারা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগের তিনবারই হারগুলো বড় ব্যবধানে। ২০১৫ সালে পার্থে প্রথম দেখায় হার ৫-০ ব্যবধানে। ঢাকায় সেবার ফিরতি দেখায় হারের ব্যবধান ৪-০ তে নামাতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তবে চলতি বাছাইয়ে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। গত বছর নভেম্বরে মেলবোর্নে বাংলাদেশের হার ৭-০ ব্যবধানে। আজও এ রকম কিছুই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। তবে জামাল ভুঁইয়ারা পণ করেছেন, মেলবোর্নের দুঃস্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়ার।

যতই ঘরের মাঠ হোক। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আগের ম্যাচগুলো যতই অনুপ্রেরণা জোগাক, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলেই বিষয়টা ভীষণ কঠিন। সকারুরা ২০২২ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। চলতি বছর তারা অবশ্য এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে। তবে পরের বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপে জায়গা করে নিতে তারা বাছাইয়ের শুরু থেকেই ভীষণ ভয়ংকর। আই গ্রুপে তারা চার ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে; ১২ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। দুইয়ে থাকা ফিলিস্তিনের সঙ্গে ব্যবধান ঠিক পাঁচ পয়েন্টের। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ২৪তম, এশিয়ায় চতুর্থ। আজ জিতলে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। তো, এমন দলের বিপক্ষে অনেক বড় কিছুর আশা করাই বোকামি। বরং প্রতিপক্ষকে কত কম গোলে বেঁধে ফেলা যায়, সেই ছকই কষতে হচ্ছে কাবরেরাকে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের দৌড় থেমে গেছে আগেই। তবে এখনো তৃতীয় হয়ে দ্বিতীয়পর্ব শেষ করার সুযোগ আছে জামালদের সামনে। দোহায় আজ গ্রুপের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফিলিস্তিন ও দুই পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা লেবানন। সেই ম্যাচে ফিলিস্তিন জিতলে সরাসরি চলে যাবে এশিয়ান কাপের চূড়ান্তপর্বে। সেক্ষেত্রে ১১ জুন দোহায় স্বাগতিক লেবাননকে যদি বাংলাদেশ হারিয়ে দেয় তবে তারা হবে তৃতীয়। যা তাদের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয়পর্বে খানিকটা সুবিধা দেবে। তবে সেই ম্যাচের জন্য কিছুটা আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে নিতে আজ কিংস অ্যারেনায় সকারুদের চমকে দিতে হবে বাংলাদেশকে।

কিংস অ্যারেনায় এই বাছাইয়েই খেলা দুই ম্যাচে বাংলাদেশ খেলেছে উজ্জীবিত হয়ে। মেলবোর্ন ঝড়ের পাঁচ দিন পর এখানেই তারা লেবাননকে থমকে দেয় ১-১ ব্যবধানে। মার্চে কুয়েতে ফিলিস্তিনের কাছে পরাভূত হওয়ার পর এখানে দারুণ জবাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ মুহূর্তের ভুলে হারতে হয়েছিল ১-০ ব্যবধানে।

অসিদের গোলৎসব থামাতে বড় দায়িত্ব নিতে হবে দলের রক্ষণভাগকে। তারিক কাজী ফিরেছেন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে। তবে কার্ডের খাঁড়ায় কাটা পড়ে দুশ্চিন্তাটা বাড়িয়েছেন ফর্মে থাকা রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ। এছাড়া মজিবুর রহমান জনিও আজ থাকছেন না একই কারণে।

অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি দাবি করেও ম্যাচ জয়ের দুঃসাহস দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ। সেক্ষেত্রে মেলবোর্নের মতো আগেভাগে গোল হজমের ভুল করা চলবে না। তবেই নাকি সুযোগ তৈরি হবে জয়ের! সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘আমরা আবারও খুবই রোমাঞ্চিত বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে। কেবল নিজেদের জন্য নয়, আমরা একটা অসাধারণ ম্যাচ খেলতে চাই আমাদের দর্শকদের জন্য। আমরা রোমাঞ্চিত আবারও ঘরের মাঠে খেলতে নামছি। কারণ আমরা জানি নিজেদের মাঠে আমরা যে কোনো দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে যাতে মেলবোর্নের মতো শুরুতেই গোল না হজম করি। এটা আমাদের জন্য জয়ের দরজা খুলে দিতে পারে।’

কাবরেরা জয়ের কথা বলে হয়তো পাশে বসা অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াকে দিতে চাইলেন সাহস। তবে খুব আশান্বিত কি হওয়ার সুযোগ আছে? অস্ট্রেলিয়া দলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, বুন্দেস লিগা ও সিরি-আ তে খেলা বেশ ক’জন ফুটবলার আছেন। এই দলে বায়ার্ন মিউনিখ, অ্যাস্টন ভিলা, লিস্টার সিটি, পারমা, সেইন্ট পাউলির মতো দলের খেলোয়াড় আছেন। যারা নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মেলবোর্নে খেলা দলটির ৯ জন নেই বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলে। আর সর্বশেষ ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডের পাঁচজন নেই। তবে যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই ক্লাব ফুটবলে প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন দলে। কোচ  গ্রাহাম আরনল্ড অবশ্য অতীত ভুলে নতুন একটা ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন এবং প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে সমীহ করেই মাঠে নামতে চাচ্ছেন, ‘আমরা এখানে এসেছি নিজেদের লক্ষ্য (গ্রুপসেরা হওয়া) বাস্তবায়ন করতে। সেই লক্ষ্যে ভালো খেলা ফুটবলারদের নিয়েই এখানে এসেছি। মেলবোর্নে আমরা বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারালেও সেটা আমার কাছে অতীত। কারণ ঘরের মাঠে বাংলাদেশ অনেক ভালো ফুটবল খেলে। সুতরাং তাদের খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’

পার্থে ৫-০, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ৪-০’র পর মেলবোর্নে ৭-০ ব্যবধানে হার। কিংস অ্যারেনায় আজ আরেকটি বড় হারের শঙ্কা নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে এই ভেন্যুতে আগের ম্যাচের মতো যদি জ্বলে উঠতে পারে লাল-সবুজের দল, তবে হয়ে যাবে ইতিহাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত