বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এনডিএ জোট ছাড়ার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন নাইডু

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৬:১০ পিএম

‘আমরা যদি এনডিএ’র অংশ না হই তাহলে ভোটে লড়লাম কী করে’ তেলুগু দেশম পার্টির প্রধান কে চন্দ্রবাবু নাইডু এমনই একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। বুধবার (০৫ জুন) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন নাইডু। এ সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) সঙ্গে রয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি পাল্টা এ প্রশ্ন করেন।

নাইডু আদৌ এনডিএর অংশ হয়ে থাকবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে লড়াই করেছি। কেন এই সন্দেহ হলো, আমি জানি না।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর শরিকরা বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নাইডুর দিকে বিশেষ মনযোগ দিয়েছিলেন মোদি। বৈঠকের সময় মোদির পাশেই ছিলেন দুই নেতা।

জল্পনা চলছে, নাইডু ও নীতিশের সঙ্গে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া যোগাযোগের চেষ্টা করছে, যাতে ২৩২টি আসনে জেতা এই জোট সরকার গঠন করতে পারে। এ নিয়ে সন্দেহ কাটিয়ে উঠতেই নাইডু ও নীতিশের কাছ থেকে ‘লিখিত অঙ্গীকারনামা’ নিয়েছে বিজেপি। বৈঠক শেষে চলে যাওয়ার সময় নাইডু বলেন, ‘খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’

গেরুয়া শিবির জানিয়েছে, দুটি কারণে নাইডু এবং নীতিশের প্রতি বিশেষ মনযোগী বিজেপির হাইকমান্ড। প্রথমত ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে বিজেপির ফলাফল হতাশাজনক। দ্বিতীয়ত নীতিশ ও নাইডু জোট ছাড়ছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

নীতিশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর দিকে বিশেষ মনযোগ ছিল মোদির

ভারতের লোকসভায় মোট আসন ৫৪৩টি। কোনো দল বা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায় তাহলে ন্যূনতম ২৭২টি আসন নিশ্চিত করতে হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে জয়ী হয় ২৮২টি আসনে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি পায় ৩০৩ আসন। ফলে গত দুইবার সরকার টিকিয়ে রাখতে শরিকদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।

তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। লোকসভায় বিজেপি পেয়েছে ২৪০টি আসন। আর শরিক দলগুলো পেয়েছে ৫৩টি আসন। তাই এককভাবে সরকার গঠন না করতে পারলেও জোট সরকার গঠনে বাধা নেই বিজেপির।

যদিও মঙ্গলবার (০৪ জুন) নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই গুঞ্জন উঠে নীতিশ ও নাইডু এনডিএ ছেড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া জোটে যোগ দিচ্ছেন। জোটের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই দুজনের যে অতীত রেকর্ড, তাতে এমন গুঞ্জন উঠলে তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বিজেপির পক্ষে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ দল-বদলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। অপরদিকে অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নাইডু বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ জোটশরিক হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতির অভিযোগে গত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে বেশ হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাকে কারাগারেও যেতে হয়। ফলে বিজেপিকে চাপে ফেলতে তিনি ইনডিয়া জোটে যোগ দিতে পারেন এমন গুঞ্জন উঠেছিল।

আর এসব গুঞ্জন আমলে নিয়েই দুই নেতাকে কাছে টেনেছেন মোদি। বিজেপি সূত্র জানিয়েছে, দলের হাইকমান্ডের এখন প্রধান লক্ষ্য এনডিএ জোট অক্ষত রাখা। বিহারে নীতিশের দল জেডিইউ এবারের লোকসভায় ১২টি আসনে জিতেছে। অন্যদিকে অন্ধ্র প্রদেশে নাইডুর দল তেলেগু দেশম পার্টি জিতেছে ১৬টি আসন। তাই শপথ অনুষ্ঠানের আগে এনডিএ জোটের বৈঠকে নীতিশ ও নাইডুর অংশগ্রহণ বিজেপির কাছে সবুজ সংকেতই ছিল।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত