শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডালাস-নিউ ইয়র্ক ক্রিকেট উন্মাদনা

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০১:০৪ এএম

‘টিকিট আপনার, যাতায়াত আমাদের।’ অনেকটা এমন স্লোগানে দল বেঁধে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিউ ইয়র্ক প্রবাসীরা। ১০ জুন এখানকার নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। স্টেডিয়াম এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান জটিলতা তো আছেই সঙ্গে ৪০ ডলার ফির কারণেও ছোট-বড় গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন প্রবাসীরা। কেউ কেউ ৫০ আসনের বাস ভাড়া করেছেন, অনেকে এক গাড়িতে অন্যদের নিয়ে কিংবা দল বেঁধে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে স্টেডিয়াম যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই হৈ-হুল্লোড় আর মাস্তি করে নিজ দলকে উৎসাহ দেওয়া।

তবে দিন দশেক আগেও চিত্রটা এমন ছিল না। ক্রিকেট দুনিয়ায় একেবারেই আনাড়ি আমেরিকার কাছে দু-দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে হার বড় একটা ক্ষত তৈরি করেছিল বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। সেই ক্ষোভ থেকেই কি না, আইসিসির লটারি জিতে হোক কিংবা পরে যারা টিকিট কিনেছিলেন তাদের অনেকের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকিট বিক্রি করে দেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি গ্রুপগুলোয় দেখা গেছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে নানা ট্রল। শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই তো নয়, মিডিয়ায় খেলোয়াড়দের নিয়ে খেলাবহির্ভূত নানা নেতিবাচক খবরেও বিরক্ত হয়েছিলেন খেলাপাগল মানুষ। কিন্তু বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যেতে থাকল দৃশ্যপট। অনেকের মধ্যেই ফিরে এসেছে সেই চেতনা জিতলেও বাংলাদেশ, হারলেও বাংলাদেশ। লাল-সবুজ জার্সি কেনার জন্য জায়গায় জায়গায় ধরনা দিচ্ছেন অনেকেই। এটাও সত্য যে বাংলাদেশের খেলা দেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যাও কিন্তু নেহাত কম নয়।

নিউ ইয়র্কের মতো না হলেও বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনার কমতি নেই ডালাসেও। এখানে বাংলাদেশিদের বাস মাত্র ২৫-৩০ হাজারের মতো। যেখানে নিউ ইয়র্কে এ সংখ্যাটা কয়েক লাখ। টেক্সাসের রাজধানী অস্টিন, হিউস্টনের মতো বড় বড় শহর ছাড়াও দূর-দূরান্তের অঙ্গরাজ্য থেকেও দলে দলে প্রবাসীরা এরই মধ্যে ভিড় জমিয়েছেন ডালাসে।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি শুরু হবে ডালাস সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় (বাংলাদেশে ৮ জুন, সকাল সাড়ে ৬টা)। আবহাওয়া ভালো না থাকায় বাংলাদেশ দল মাঠে সব সেশন অনুশীলন করতে পারেনি। কয়েকটি সেশন সারতে হয়েছে ইনডোরে। আশার কথা, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাংলাদেশের প্রথম খেলার দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলা হচ্ছে।

ডালাসে সমস্যা একটাই। সেটা হলো টিকিট। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর সবার আগে যে খেলাটির টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায় সেটি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার। মাত্র ৭ হাজার ধারণক্ষমতার গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়াম। আয়োজক দেশ চেষ্টা করেছিল স্টেডিয়ামে পোর্টেবল গ্যালারি বানিয়ে নিদেনপক্ষে ১৫ হাজার দর্শক যাতে খেলা দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে। কিন্তু বিধিবাম। বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রবল ঝড়ে ভেঙে পড়ে সেই আয়োজন।

ডালাস ও নিউ ইয়র্কে স্টেডিয়ামের বাইরে তো বটেই দুই সিটির ডাউনটাউনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকছে বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ। ডালাসে যেমন এটিঅ্যান্ডটি, ব্যাংক অব আমেরিকার মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ভবনের বাইরে বসানো হয়েছে বড় পর্দা। নিউ ইয়র্কেও তাই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে বড় পর্দার সঙ্গে পুরো এলাকা সাজানো হয়েছে অংশগ্রহণকারী সব দেশের পতাকা, খেলার সূচি ও ভেন্যুর নাম, বিশ্বকাপ ট্রফি, ব্যাট-বলসহ নানা সাজে। আইসিসির তরফে আরও নানাভাবে চালানো হচ্ছে প্রচারণা। কেননা উপমহাদেশসহ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতে খেলাটির যেকোনো সংস্করণের টুর্নামেন্টে খুব বেশি প্রচারণার দরকার না হলেও আমেরিকার বেলায় সেটি খাটে না। অবশ্য এখন পর্যন্ত স্বাগতিকদের যে পারফরম্যান্স তাতে সেদিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন আমেরিকাতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে ক্রিকেট। 

আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক অর্থে ভাগ্যবান, যে দুটি খেলা এখানে হবে, সেগুলো বড় দুই দলের সঙ্গেই। বাকি দুই খেলা হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত