সন্ত্রাসের অভিযোগে বর্তমানে কারাবন্দি দুই প্রার্থী সদ্য সমাপ্ত ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে কারাবন্দি নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে দেওয়া হবে কি না? যদি দেওয়া হয় তাহলে সেটি কীভাবে? এই দুজনেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত।
এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার রশিদ ২০১৯ সালে ৯ আগস্ট থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন। অমৃতপাল সিংকে ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের পর অসামের ডিব্রুগড় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জেল থেকে লড়া সত্ত্বেও মানুষ তাদের জিতিয়েছেন। তাই তাদের শপথের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুনের বেড়াজাল রয়েছে। এ কারণে তাদের আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে। সংসদে যেতে হলে তাদের বিশাল নিরাপত্তাবাহিনী সঙ্গে যেতে হবে।
তিহার জেলে বন্দি শেখ আবদুল রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মীরের বারামুল্লা আসন থেকে দুই লাখের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আবার ওয়ারিস দে পাঞ্জাবের প্রধান তথা বিচ্ছিন্নতাবাদীর তকমা লাগা অমৃতপাল সিং খাদুর সাহিব কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি ভোটে। অর্থাৎ ব্যাপক ভোটের মার্জিনে জয় পেয়েছেন তিনি, তা স্পষ্ট।
শপথের জন্য তাদের আদালতে আবেদন জানাতে হবে। এরপর তারা নির্দেশের কপি পাবেন। সেই কপি জেল কর্তৃপক্ষকে জমা দিলে তারা এই দুই জেলবন্দিকে সংসদে পা রাখার ব্যবস্থা করবে। সংসদে যাওয়ার পথে তারা দুইজন মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না। কারও সঙ্গে সাক্ষাতও করতে পারবেন না যাওয়ার পথে।
শপথ নেওয়ার পর তাদের কারাগারে ফিরতে হবে। শপথগ্রহণের পর লোকসভার স্পিকারকে এই প্রার্থীদের লিখিতভাবে জানাতে হবে, তারা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। অনুপস্থিত হিসেবে তারা সংসদের সদস্য থাকতে পারেন কি না, ভোটাভুটির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তবে কোনো অপরাধে জেলবন্দি হওয়া জয়ী প্রার্থীরা দোষী সাব্যস্ত হলে এবং তাদের দুই বছর বা তার বেশি দিনের জেল হলে সঙ্গে সঙ্গে সাংসদ পদ খোয়াতে হবে তাদের। অমৃতপাল এবং রশিদের ক্ষেত্রে কী হয়, সেটাই এখন দেখার।
লোকসভার সাবেক সচিব জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে দুই সাংসদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীরা যেতে পারবেন সংসদের মূল দ্বার পর্যন্ত। তারপর তাদের আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সংসদের ভেতরে সেখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্ব সামলাবেন।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো জেলবন্দি ভোটে লড়তে পারেন। এর আগে উত্তর প্রদেশ থেকে একজন সংসদে আসার পর স্পিকারকে জানিয়েছিলেন, তার জীবনহানি আশঙ্কা রয়েছে। তাই জেলেই থাকতে চান তিনি। সংসদের ভিতরে সব সদস্যের একই রকম ক্ষমতা রয়েছে।
বাজারে যাওয়ার পথে নারীকে আস্ত গিলে ফেলল সাপ
রাহুল গান্ধীই হচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা