শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উজবেকিস্তানে ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে রোসাটম

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০৬:০৬ পিএম

উজবেকিস্তানে ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান রোসাটম। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক উজবেকিস্তান সফরকালে দেশটিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আন্তঃসরকারি চুক্তিটির কার্য পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রটোকল সই হয়েছে বলে শনিবার রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রায় একই সময় রোসাটমের প্রকৌশল শাখা এতমস্ত্রয় এক্সপোর্ট এবং উজবেকিস্তান পারমাণবিক শক্তি এজেন্সির অধীনস্থ ডিরেক্টরেট ফর দা কন্সট্রাকশন অফ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টস উজবেকিস্তানে একটি ক্ষুদ্র এনপিপি নির্মাণের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

উজবেকিস্তানের জিজাখ অঞ্চলে রুশ নকশায় নির্মিতব্য এই ক্ষুদ্র পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬টি ইউনিট থাকবে, যার প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫ মেগা-ওয়াট, অর্থাৎ মোট ক্ষমতা ৩৩০ মেগা-ওয়াট হবে। রোসাটম প্রকল্পটির জেনারেল কন্ট্রাকটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এর নির্মাণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে।

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এটি প্রথম এক্সপোর্ট কন্ট্রাকট, যার মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে রোসাটমের অবিসংবাদিত নেতৃত্ব নিশ্চিত হয়েছে। এটা কোনও প্রাথমিক চুক্তি নয়, চলতি গ্রীষ্মেই আমরা এর নির্মাণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।

উঝাটমের পরিচালক আজিম আখমেদ খাজায়েভ জানান যে পূর্বাভাস অনুযায়ী উজবেকিস্তানে বিদ্যুতের চাহিদা ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় দ্বিগুণ হবে। তার মতে, দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থিতিশীল রাখতে নবায়ণযোগ্য জ্বালানির অতিরিক্ত বেইজ-লোড এনার্জি উৎসের প্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

জিজাখ অঞ্চলে নির্মিতব্য পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সর্বাধুনিক রুশ রিয়্যাক্টর ব্যবহৃত হবে। স্থলভাগে স্থাপনের জন্য এটিতে উদ্ভাবনী ম্যারিন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর তাপ উৎপাদন ক্ষমতা ১৯০ মেগা-ওয়াট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫ মেগা-ওয়াট এবং এর জীবনকাল ৬০ বছর পর্যন্ত।

সর্বাধুনিক রিয়্যাক্টরগুলো অত্যন্ত প্রতিকুল আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত আধুনিক রুশ আইসব্রেকারগুলোতে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত আইসব্রেকারগুলোর জন্য ১০টি এজাতীয় রিয়্যাক্টর নির্মাণ করা হয়েছে।

রিয়্যাক্টর ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক এবং এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেক বেশি কার্যকরী। এগুলোতে সক্রিয় ও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুরক্ষা ব্যুহর সমাবেশের মাধ্যমে কোনও দুর্ঘটনার সম্ভাবনাকে প্রায় শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

ক্ষুদ্র পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন এর নির্মাণকাল অনেক কম এবং প্রয়োজন অনুসারে এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে সারা বিশ্বেই এ জাতীয় রিয়্যাক্টরগুলোর চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি এজেন্সির তথ্য অন্যযায়ী প্রায় ৫০টি এ জাতীয় প্রকল্প নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে, ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে শুধুমাত্র রাশিয়ারই ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা আছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত