গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে অভিজ্ঞতার কতটা গুরুত্ব তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন নারীদের এক নম্বর ইগা সোয়ানতেক। ফাইনালে ইতালির জেসমিনে পাওলিনিকে দাঁড়াতেই দিলেন না তিনি।
৬৭ মিনিটের লড়াই জিতে নিলেন সরাসরি সেটে (৬-২, ৬-১)। ফরাসি ওপেনে টানা তিনবার, মোট চার বার চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। ক্যারিয়ারে জিতলেন পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম। উন্মুক্ত যুগে এত কম ম্যাচে কোনো নারী টেনিস খেলোয়াড় পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারেননি।
২৮ বছরের পাওলিনি নিজের ক্যারিয়ারে মাত্র এক বারই ডব্লিউটিএ খেতাব জিতেছেন। এই বারই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল খেলেছেন তিনি। ফাইনালের শুরুটাও দারুণ করেছিলেন।
প্রথম সেটের তৃতীয় গেমেই সোয়ানতেকের সার্ভিস ভেঙে এগিয়ে যান। সেটাই হয়তো কাল হলো। সোয়ানতেক ভাবতে পারেননি, তার সার্ভিস ভেঙে দেবেন পাওলিনি। এই রকম পরিস্থিতিতে চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের সেরা খেলা বের করে আনেন। সেটাই যেন করলেন সোয়ানতেক। পরের গেমেই বদলা নিলেন পোল্যান্ডের তারকা। সার্ভিস ভাঙলেন পাওলিনির।
সেই শুরু। প্রথম সেটে পরের চারটি গেম জিতলেন সোয়ানতেক। আরও দুবার পাওলিনির সার্ভিস ভাঙলেন। ৬-২ প্রথম সেট জিতে নেওয়ার পরে যে হুঙ্কার দিলেন তাতেই বোঝা যাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত কী হতে চলেছে। যত সময় গড়াল তত দাপট দেখালেন সোয়ানতেক।
দ্বিতীয় সেটে তো পাওলিনিকে দাঁড়াতেই দিলেন না। টানা পাঁচটি গেম জিতলেন। ষষ্ঠ গেমে পাওলিনি নিজের সার্ভিস ধরে রাখলেও ততক্ষণে খেলার ফল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সপ্তম গেমে নিজের সার্ভিস ধরে রেখে আবারও লাল দুর্গের রাণী হলেন সোয়ানতেক।
ফ্রেঞ্চ ওপেনের নারী এককে এটা তার হ্যাটট্রিক শিরোপা। ২০২০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। পরের বছর ফাইনালে না খেললেও ২০২২ সাল থেকে এটি সোয়ানতেকেরই হয়ে গেছে। এবারও জিতে প্রমাণ করলেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে তিনি কখনও হারেন না। এ নিয়ে তার পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম হলো। চারটি ফ্রেঞ্চ ওপেনের পাশাপাশি তিনি ২০২২ সালে ইউএস ওপেনের শিরোপাও জিতেছিলেন।
