ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে পারবেন না।
এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গত ৪ জুন একটি নোটিশ দিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান।
নোটিশে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে এ হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
এমন নোটিশে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময় অন্যান্য পরিচালকরা মৌখিকভাবে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু নোটিশ দিয়ে নির্দেশনার ঘটনা এটাই প্রথম। এতে সাংবাদিকদের সাধারণ তথ্য সংগ্রহ করতেও বেশ বেগ পেতে হবে। কারণ ভয়ে কোনই চিকিৎসক বা কর্মকর্তা-কর্মচারী কথা বলতে চাইবেন না। আবার পরিচালকের থেকে অনুমতি আনার বিষয়টিও বেশ জটিল।
এমনকি এখন থেকে এই হাসপাতালের কোনো তথ্য সংগ্রহ বা কোনো ছবি তুলতে বা ধারণ করতে হলে সাংবাদিকদের পরিচালকের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি নেওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ওয়ার্ডের বাইরে অন্য কোন ওয়ার্ড বা ব্যক্তির সাথেও সাংবাদিকরা কথা বলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়িার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের একজন মনোনীত ব্যক্তি থাকেন। সেটা পরিচালক অথবা পরিচালক মনোনীত কেউ হতে পারেন। এখন আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই যদি যে যার মতো করে বক্তব্য দেয়, সেটা গ্রহণযোগ্য না। সে জন্য বলেছি, হয় আমি বক্তব্য দেব অথবা আমার মনোনীত কোনো একজন দেবেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা বক্তব্য দেব না, এমন কথা বলিনি। আমার এখানে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। দেখা যায় অনেক নিচু পর্যায়েরও অনেকের সাথে যোগাযোগ করা হয়।
পুলিশের একটা ক্যাম্প আছে। সেটা সরাসরি আমার অধীনে আছে। সেখানে বাচ্চু মিয়া (ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ) উনি স্টেমেন্ট দিয়ে দেন। কিন্তু আমার একজন ওয়ার্ড মাস্টার বা তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী, কোনো একটা ঘটনার পুরো বিষয় না জেনেই একটা বক্তব্য দিল। সেটা তো আমরা চাই না।
এই কর্মকর্তা বলেন, এখন থেকে এই হাসপাতালে কোনো সাংবাদিক কোন তথ্যে জন্য গেলে প্রথমে আমার কাছে আসতে হবে। আপনাদের তথ্য দেব না, তা নয়। সেটা আমি দিতে পারি, অথবা আমার মনোনীত কোনো ব্যক্তি দিতে পারে।
এমনকি এখন থেকে কোনো সাংবাদিক সরাসরি কোনো ওয়ার্ডে গিয়ে কোনো চিকিৎসক বা অন্য কারো সাথে কোনো কথা বলতে পারবেন না বলেও জানান এই পরিচালক।
তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে গত পাঁচ মাসে আমার অভিজ্ঞতা হলো, আমি মৌখিকভাবে অনুমতি দেই। কিন্তু দেখা গেল উনি ওই ওয়ার্ডে যে কাজের জন্য গিয়েছিলেন, সেটার পাশাপাশি অন্য ওয়ার্ডে গিয়েও ছবি বা ভিডিও করছেন। আমার লোকের সাথে গিয়েই যেটুকু বলেছেন তার চেয়ে অনেক বেশি ভিডিও ক্লিপ নিয়ে এসেছেন। এতে অসুবিধা হয়। সেসব তারা অন্য কাজে ব্যবহার করেন।
এই পরিচালক দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, একেকজন একেক উদ্দেশ্য নিয়ে আসেন। যখন প্রচার করেন, তখন দেখা যায় যে তথ্য বা ভিডিও নিয়েছেন, তার সাথে কোনো মিল নেই। সে জন্য আমরা আমরা একটা নোটিশ দিয়েছি যে, কোন সাংবাদিক যদি আসেন, উনি কোনো ওয়ার্ডে যেতে চান বা কি করতে চান, আমাকে বলবেন। আমি আমার লোক দিয়ে ওই ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেব। একই সাথে ওই ওয়ার্ডের কথা বলে অন্য ওয়ার্ডে ঢুকে ছবি বা ভিডিও ধারণ করা যাবে না। পরবর্তীতে ইচ্ছেমত প্রচার করলেন। সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঢাকা মেডিকেল সব মিডিয়ার একজন করে প্রতিনিধি আছে। এভাবে যদি সবাই প্রচার করতে থাকে, বিশেষ করে নেগেটিভ নিউজ, তা হলে তো এই হাসপাতাল চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি ঢামেক থেকে চুরি হওয়া নবজাতক
স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে তিন কন্যাসহ গৃহবধূ নিখোঁজ
ঈদের আগে কমল সোনার দাম
সড়কে ঝরল জাবি শিক্ষার্থীসহ তিন জনের প্রাণ