বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিদেশি বিনিয়োগকারীকে অফিসাররা বলেন 'লন্ডনে ছিলেন লন্ডনে চলে যান'

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ১০:৫৭ এএম

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীকে দুর্নীতিপরায়ণ সরকারি অফিসাররা বলেছেন, আপনি সব বিনিয়োগ নিয়ে চলে যান। লন্ডনে ছিলেন লন্ডনে চলে যান। বাংলাদেশে আপনার দরকার নেই। কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের বড় বিনিয়োগ চাই। আর আমাদের দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীরা তাদের বলেন বিনিয়োগ ফিরিয়ে নিয়ে যান।

আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ড. এ কে আবদুল মোমেন। সে সময় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করেছিল। দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার বিষয়ে অভিমত জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি পাভেল হায়দার চৌধুরী।

বিদেশি বিনিয়োগ কি যথেষ্ট? আমরা পিছিয়ে আছি কেন?— এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারের অন্য মন্ত্রী, ব্যবসায়ীরা বিদেশে যান। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক হয়। বিদেশিদের বিনিয়োগ করার আগ্রহ বাড়াতে তাদের হাতে-পায়ে ধরি আমরা। আমাদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধার কথা বলি। সরকার বিনিয়োগবান্ধব সেটাও অবহিত করা হয়। কেউ কেউ আমাদের কথায় ভরসা পেয়ে আসেন। বিনিয়োগ করতে আসার পর আমরা তাদের হাইকোর্ট দেখাই। গত বছর সাতজন প্রবাসী বিনিয়োগ করতে ঢাকায় আসেন। বিমান থেকে নামার পর আমরা তাদের জেলে দিয়েছি। ওই বিদেশিরা স্থানীয় অংশীদার যাকে নিয়েছেন তিনি একটা শয়তানি করে তাদের পুলিশে দিয়ে জামিন অযোগ্য মামলা দিয়ে  ঢাকা থেকে বহু দূরের কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ১০ দিন তারা কারাগারে ছিলেন। তারা সবাই সম্মানিত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী। তাদের ইংল্যান্ডেও ভালো ব্যবসা আছে। বাংলাদেশেও তারা আর্থিক খাতে আগে ব্যবসা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন ভদ্রলোককে হাতে-পায়ে ধরে সিলেটে এনেছি। একজন ব্যারিস্টার, অবস্থাসম্পন্ন। তিনি এখানে একটা বড় রিসোর্ট তৈরি করেছেন, একটা ফাইভ স্টার হোটেল বানাচ্ছেন। সিলেটের অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ নিয়েছেন। ঢাকায়, তারাই একমাত্র কোম্পানি যারা ডাবল গ্লেজ গ্লাস কারখানা চালু করেছেন। তিনি সিলেটে ব্যবসা করতে গেলে সেখানে দুর্নীতিপরায়ণ সরকারি কর্মচারীরা তাকে করের অর্ধেক বিনা নথিতে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই ব্যবসায়ী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা বলেন, আপনাকে বাংলাদেশের ‘ট্র্যাডিশন’ জানতে হবে। এখানে ট্র্যাডিশন হলো আপনি সরকারকে যে টাকা দেন আমাদেরও সমপরিমাণ দিতে হবে। তা না হলে আপনাকে অসুবিধায় ফেলে দেওয়া হবে। ওই ব্যবসায়ী জবাব দেন আমি দেব না। আমাকে অসুবিধায় ফেলেন। তাকে এখন বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দুর্নীতিপরায়ণ সরকারি অফিসাররা তাকে বলেছেন আপনি সব বিনিয়োগ নিয়ে চলে যান। লন্ডনে ছিলেন লন্ডনে চলে যান। বাংলাদেশে আপনার দরকার নেই। কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের বড় বিনিয়োগ চাই। আর আমাদের দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীরা তাদের বলেন বিনিয়োগ ফিরিয়ে নিয়ে যান।

বিস্তারিত সাক্ষাৎকারটি পড়ুন এখানে

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত