মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাজবাড়ী হাসপাতাল

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও দেখা মেলে না ডাক্তারের 

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম

রুমা খাতুন নামে এক নারী কাউন্টার থেকে বহির্বিভাগের টিকিট সংগ্রহ করে সকাল ৯টা থেকে দাঁড়িয়ে আছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে। তার পেছনে আরও প্রায় ৪০ জন। লাইন ধীরে ধীরে আরও লম্বা হচ্ছে। কেউ কেউ মেঝেতে বসে ঘুমিয়ে পড়েছেন। বেলা ১১টা বাজে। কিন্তু চিকিৎসক তখনো চেম্বারে প্রবেশ করেননি। এটা এক দিনের চিত্র নয়।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এভাবেই প্রতিদিন অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজনকে। অসুস্থতা সারাতে এসে এমন অবস্থায় কেউ কেউ আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালটিতে সকাল ৮টা থেকে অফিসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ চিকিৎসক এই নিয়ম মানেন না।

হাসপাতালের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও সবসময় এখানে রোগী ভর্তি থাকে এর প্রায় তিনগুণ। রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলা ও পাবনা জেলার কিছু অংশের মানুষ এখানে সেবা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন।

আজ রবিবার (৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল প্রবেশ পথেই জরুরি বিভাগ। জরুরি বিভাগের সামনে আল্ট্রাসনোগ্রাফির কক্ষ। কক্ষের সামনে রোগীরা আল্ট্রাসনোগ্রাফ করানোর জন্য বসে আছেন। একটু সামনে এগোলেই হাতের ডানে বহির্বিভাগ। পুরুষ বহির্বিভাগে চিকিৎসক রোগী দেখছেন। মহিলা বহির্বিভাগ কক্ষের সামনে দীর্ঘ লাইন। অনেকে ক্লান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়েছেন। কেউবা ঝিমাচ্ছেন। দ্বিতীয়তলায়ও একই রকম চিত্র। সব বহির্বিভাগের সামনেই রোগীরা চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন। অপেক্ষারত মায়ের কোলে শিশুদের কান্নায় এক অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি সবাই। গত বুধ, বৃহস্পতি ও শনিবার গিয়েও হাসপাতালটিতে এমন চিত্র দেখা যায়।

রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করে দেখা যায়, শিশু বহির্বিভাগে (১০০ নম্বর কক্ষ) চিকিৎসক প্রবেশ করেন ৯টা ৫৫ মিনিটে, পুরুষ বহির্বিভাগে ৯টা ৫০ মিনিটে, মহিলা বহির্বিভাগে ১০টা ১২ মিনিটে, চক্ষু কনসালট্যান্ট ৯টা ৪২ মিনিটে, যৌন ও চর্ম কনসালট্যান্ট ১০টা ৪৯ মিনিটে, নাক—কান ও গলার কনসালট্যান্ট ১০টা ৪০ মিনিটে, মেডিকেল অফিসার (গাইনি) ১০টা ৫০ মিনিটে, আল্ট্রাসনোগ্রাফের চিকিৎসক ১০টা ৩০ মিনিটে প্রবেশ করেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থানকালীন সময়ের মধ্যে অর্থোপেডিক সার্জারি, মেডিসিন ও সার্জারি কক্ষে কোনো চিকিৎসক প্রবেশ করেননি।

মহিলা বহির্বিভাগ ১১০ নম্বর কক্ষের সামনে অপেক্ষারত রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের কোলারহাট এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, ‘সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়েছি। সবার আগে আমি এসেছি। এখন ১০টা বাজে। কিন্তু ডাক্তার আসেনি।’

ভোর ৬টায় কেন বাড়ি থেকে বের হয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, ‘সকালে না এলে জায়গা পাওয়া যায় না।’

আরেক নারী রাজিয়া বেগম চিকিৎসকের অপেক্ষায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে মেঝেতেই বসে পড়েছেন এবং একসময় ঘুমিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী একজন রিকশাচালক। বাইরে ডাক্তার দেখানোর জন্য অনেক টাকার দরকার। আমাদের এত টাকা নেই। তাই এই হাসপাতালে এসে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছি।’

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, ‘অফিস সময় শুরু সকাল ৮টায়। একাধিকবার চিকিৎসকদের নিয়ে এ বিষয়ে বসেছি। যারা সময় মতো আসেন না, এর কারণ তারাই বলতে পারবেন।’

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত