বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিদেশি অপারেটরের অধীনে কার্যক্রম শুরু পিসিটির

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:১৩ এএম

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে অবশেষে বিদেশি অপারেটরের অধীনে বাণিজ্যিক জাহাজ ভেড়ানোর মাধ্যমে ল্যান্ড লর্ড পদ্ধতিতে সচল রয়েছে। এমভি মায়েরস্ক দাভাও নামক জাহাজটি গতকাল বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ভিড়ে। গত বছরের ১৪ নভেম্বর সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়েকে ২২ বছরের চুক্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় এই টার্মিনালটি। মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে। আর এর মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির ইতিহাস সৃষ্টি করল চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দরে ইকুইপমেন্ট ক্রয় ও পরিচালনায় ইতিমধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে কোম্পানিটি। গতকাল ভেড়া জাহাজে সিঙ্গাপুরগামী পণ্য তুলে দিয়ে পণ্য পরিবহনে নতুন ইতিহাস শুরু করল। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে এসব পণ্য পরিবাহিত হতো। এখন থেকে বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল থেকে পরিবাহিত হবে। 

প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ের সঙ্গে চুক্তি হয় গত বছরের ১৪ নভেম্বর। ৩২ একর জায়গার ওপর তৈরি করা ৫৮০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার ড্রাফটের এই টার্মিনালে একসঙ্গে ৩টি জাহাজ ভিড়তে পারবে। এ ছাড়া পিসিটি ও সাউথ কনটেইনার ইয়ার্ড মিলে ২ লাখ ৮ হাজার বর্গমিটার জায়গা রয়েছে কনটেইনার রাখার জন্য।

জাহাজ ভেড়ানো উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল, রেড সি গেটওয়ের বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজসহ বন্দর

কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৭ বছরের বয়সে আজ (সোমবার) ঐতিহাসিক দিন। আমরা টার্মিনাল পরিচালনায় পেলাম বিদেশি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়েকে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করল।’

চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরুকে অন্যরকম মাইলফলক উল্লেখ করে রেড সি গেটওয়ের প্রধান নির্বাহী এরউইন হেইজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এবং বৈশ্বিক লজিস্টিক চেইনে চট্টগ্রাম বন্দরের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বাড়াতে অবদান রাখতে উন্মুখ। এই সুযোগদানের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকার, বন্দর কর্তৃপক্ষ, এনবিআর, কাস্টমস এবং আমাদের দীর্ঘ সময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার মায়েরস্ককে ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত