শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ধুঁকছে কেডিএ

  • ৪৪৬ পদের শূন্য ২৫২ পদ
  • চলতি ও অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে ১৭ পদ
  • পদোন্নতি নেই ১২ বছর
  • ব্যর্থ পরিকল্পিত উন্নয়ন
আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০১:৫৪ পিএম

আধুনিক খুলনা ও পরিকল্পিত নগরী গড়ার উদ্যোক্তা খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যত; ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দরকার জনবল। প্রতিষ্ঠানটির জনবলের চিত্র হতাশাজনক। ৪৪৬ পদের বিপরীতে শূন্য ২৫২ পদই। কর্মকর্তাসহ ১৭ পদ চলছে চলতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে। পদোন্নতি না পেয়ে হতাশায় কাজে অনীহা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ঝিমিয়ে পড়েছে উন্নয়ন কাজও। সবকিছু মিলিয়ে সংস্থাটি ধুঁকছে।

কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আধুনিক খুলনা ও পরিকল্পিত নগরায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ১৯৬১ সালের ২১ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে কেডিএ। তখন থেকে কেডিএ অর্ডিন্যান্স ১৯৬১-এর ক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠানটি নগর পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সংস্থাটির অধিক্ষেত্র এখন ৮২৪ বর্গকিলোমিটার। যার উত্তর সীমানার মধ্যে রয়েছে নওয়াপাড়া পৌরসভা, পূর্বে অভয়নগর, দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা, দক্ষিণে মোংলা পোর্ট পৌরসভা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে বটিয়াঘাটা উপজেলা ও পশ্চিমে ডুমুরিয়া উপজেলার কৈয়াবাজার। চারটি শাখার মাধ্যমে সরাসরি জনসাধারণকে সেবা প্রদান করে থাকে। শাখাগুলো হলো- পরিকল্পনা, অথরাইজড, বৈষয়িক ও প্রকৌশল শাখা।

কেডিএ জানায়, ২০২১ সালের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী কেডিএতে অনুমোদিত জনবল ৪৪৬ জন। ৪৪৬টি পদের বর্তমান শূন্য রয়েছে ২৫২টি পদ। ২০০৩ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সংস্থার চেয়ারম্যান ও বোর্ড সদস্যরা ১৯৪ জনবল নিয়ে কাজ করছেন। এরমধ্যে চলতি দায়িত্বে ১৫ জন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ২ জন।

এছাড়া কেডিএতে সবশেষ ২০১২ সালে পদোন্নতি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর পদোন্নতি পাইনি কেউ। এতে প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, সিনিয়র বৈষয়িক কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক, অর্থ ও হিসাবরক্ষণ, পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১৭ পদে চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চলছে কাজ। এ কারণে এক কর্মকতাকে নির্ধারিত পদে থেকে অন্য পদের বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। কারও কারও অন্য পদে ভাসমান হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে।

পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা প্রজ্ঞাপনের ৭ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অনুচ্ছেদ ৩ এর বিধান সাপেক্ষে সাময়িকভাবে ৬ মাসের জন্য চলতি দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে। ৬ মাসের অধিক চলতি দায়িত্বে প্রদানের প্রয়োজন হলে ৬ মাস অতিক্রমের পূর্বে আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি কমিটি বা বোর্ডের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সংস্থাটিতে এই আইনের ব্যত্যয় ঘটছে। 

তারা আরও জানান, ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে জৈষ্ঠ্য কর্মকর্তারা অবসরে যাবেন। পদোন্নতি না হলে এসব পদে প্রেষণে জনবল আনা প্রয়োজন হবে। তাছাড়া কর্মকর্তারা অনেকে হতাশ হয়ে কাজে অনীহাও প্রকাশ করছেন। এতে সংস্থাটির উন্নয়ন কাজ অনেক ঝিমিয়ে পড়ছে।

সংস্থার সহকারী প্রকৌশলী (চ.দা.) মো.ছানাউল্লাহসহ কয়েকজন প্রকৌশলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে অবসরে যেতে হবে। কিন্তু চাকরি জীবনে পদোন্নতি জোটেনি। এখনও চলতি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পদোন্নতি পেলে অন্ততপক্ষে মর্যাদা বৃদ্ধি পেত।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপিস্ননের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেডিএর অধিক্ষেত্র বড়। কিন্তু জনবল অনেক কম। পরিকল্পনাবিদও মাত্র হাতেগোনা তিন থেকে চার জন। সে কারণে দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান পরিকল্পিত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভূমি ছাড়পত্র অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কীনা সেটিও তদারকি কাজও ঠিকঠাক মতো হয় না। সবকিছু চলছে বিশৃঙ্খলভাবেই। তাই জনবল বাড়িয়ে গবেষণা অনুযায়ী প্লানিং দরকার। 

অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম পদোন্নতি সম্পর্কে বলেন, মূল্যায়ন না করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা কাজ করাটা স্বাভাবিক। কাজে মনোনিবেশও আসবে না। এক সময় চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে। কারণ পদোন্নতি হচ্ছে তাদের অধিকার।

জানতে চাইলে কেডিএর সচিব মো. বদিউজ্জামান বলেন, চলমান রয়েছে নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যত্রম। পর্যায়ক্রমে সবই হয়ে যাবে আশা করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কেডিএর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মিরাজুল ইসলাম বলেন, পদোন্নতি কেন হচ্ছে না সেই বিষয় কর্মকর্তাদের জনানো হয়েছে। জনবল নিয়োগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত