আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। প্রস্তাবিত বাজেটে টাকার অঙ্ক বাড়লেও বাজেটে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় ১ দশমিক ৬৯ শতাংশের কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার এ বাজেট মোটেও যথেষ্ট নয়। এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসির উদ্যোগে 'বাজেট ২০২৪-২৫: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মত দেন বক্তারা। আজ মঙ্গলবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশ্বে চলমান সংকট মোকাবেলার চ্যালেঞ্জসমূহ বিবেচনায় নেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্ভাবন ও গবেষণা ফান্ড বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করতে হবে। নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও অপচয় রোধ করার জন্য উপাচার্য শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান জাতীয় বাজেটে প্রতিটি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয় রোধ এবং যথাযথ ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসনীয় নেতৃত্বে বাংলাদেশ দারিদ্র বিমোচনে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছে। দেশের উন্নয়নের এই ধারা আরও এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সকল শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক এবং সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুপারিশ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য সুশীল সমাজ, শিক্ষক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আবু ইউসুফ বলেন, উচ্চশিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্মার্ট ক্লাসরুম ও ল্যাব স্থাপন, আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন, উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বেতন ভাতা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়ে মানসম্পন্ন গবেষণা এবং গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য বাজেট বরাদ্দ ও সঠিক পরিকল্পনা উভয়ই প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এম. এম. ফজলুল হক, রিসার্চ এন্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।