প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের জন্য অপেক্ষা করছিল শিক্ষার্থীরা। হঠাৎ ধারালো ছুরি হাতে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়েন এক নারী। শিক্ষার্থীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্রেণিকক্ষের সবাইকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করেন। এতে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী জখম হয়েছে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো সেতু আকতার, মিতু আকতার ও রাবেয়া আকতার। তারা তিনজনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। এরমধ্যে ছুরির আঘাতে সেতুর বাম হাত, মিতুর পিঠ ও রাবেয়ার দুই পা এবং মাথায় জখম হয়েছে। অপর আহত দুই শিক্ষার্থী সোনিয়া ও সুমনা আকতার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে।
আহত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সেতু আকতার জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় ছুরি হাতে এক নারী তাদের ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েন। কোনো কথা না বলেই হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাদের আঘাত করতে থাকেন। ক্লাসের মধ্যে হৈচৈ শুনে অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন। তারপর ওই নারীকে আটক করেন।
জামালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজারুল ইসলাম বলেন, আটক নারীর নাম জান্নাতী আকতার (২১)। তার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আশিক মিয়ার স্ত্রী। আটক ওই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। কেন হঠাৎ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলেন, সেটি অজানা।
এ ঘটনায় আমরা পুলিশকে খবর দিলে, তারা এসে ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে থাকা দেশীয় ধারালো একটি ছুরি (চাকু) জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। আটক নারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কেন ও কী কারণে ওই নারী এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।
