টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে মিয়ানমারের করা গুলি আতঙ্কে ৭ দিন ধরে সকল ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সেন্টমার্টিনের দোকানগুলোতে মজুত খাদ্যপণ্য শেষ হওয়ায় দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপটিতে দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। আর এতে অনেকটা বন্দি দশায় চরম ভোগান্তিতে দিন পার করছে দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। তবে আজ কালের মধ্যে দ্বীপটিতে বিকল্প পথে খাদ্য দ্রব্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কিংবা সকল ধরনের নৌ চলাচল শুরু হবে তা জানে না কেউ।
জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও দ্বীপবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে সংঘাত চলছেই। এর মধ্যে দেশটির সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের দিকেও গুলি ছোড়া হচ্ছে। গেল ৫ জুন বুধবার সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার সময় নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রলারে মিয়ানমার থেকে গুলি ছোড়া হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রলার। এরপরদিন নাফ নদীর বদরমোকাম মোহনায় নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় পণ্যবাহী ট্রলারে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত না হলেও ট্রলারটিতে গুলি লাগে সাতটি। এরপর থেকে ভয়ে সব নৌযান বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সেন্টমার্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ খাদ্য সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের যোগাযোগসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম নৌযান। দ্বীপের বাসিন্দারা বলছেন, নৌযান বন্ধ থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সেন্টমার্টিন। খাদ্য ও পণ্যবাহী বোট চলাচল না করায় সেন্টমার্টিনের দোকানগুলোতে মজুত খাদ্যপণ্য শেষ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই পণ্যের অভাবে প্রায় ৬০ শতাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।
দ্বীপের মুদি দোকানি মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, ট্রলার বন্ধ থাকায় গত কয়েক দিন টেকনাফ থেকে কোনো পণ্য আনতে পারিনি। চাল ছাড়া দোকানে কিছু নেই। এভাবে চলতে থাকলে দ্বীপের মানুষদের না খেয়ে থাকতে হবে।
সেন্টমাটিন দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান বলেন, দ্বীপে প্রায়ই দুই শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। পণ্য না থাকায় এর মধ্যে ১২০ টিরও বেশি দোকানপাট বন্ধ রেখেছে মালিকরা। যেসব দোকান খোলা রয়েছে তাতেও সামন্য পরিমাণ পণ্য রয়েছে। যা বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। আজ কালের মধ্যে মালামাল না আনতে পারলে দ্বীপবাসীকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, বোটে প্রকাশ্যে গুলি করতে দেখে ট্রলারচালক ও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এতে নৌপথে ট্রলার নিয়ে যাতায়াত করতে কেউ রাজি হচ্ছে না। তা ছাড়া ওই পথ ছাড়া সেন্টমার্টিনে আসার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বা রুটও নেই। প্রতিদিন সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌপথে ৬-৭টি বোটের মাধ্যমে শতাধিক মানুষ আসা-যাওয়া করার পাশাপাশি খাদ্য ও নিত্যপণ্য বহন করা হতো। নৌযান বন্ধ থাকায় মানুষ খুব বিপদে আছে।
তিনি আরো বলেন, সেন্টমার্টিনের খাদ্য সংকট ও যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে যে কোনো সময় সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে পন্যবাহী ট্রলার ছেড়ে যাবে। তবে এই পথে চর থাকার কারণে ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে খাদ্যপণ্যসহ কোনো মালামাল আনা যাচ্ছে না। অনেক দোকান খালি পড়ে আছে। এর দ্রুত সমাধান করতে হবে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, গুলির ঘটনায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে নৌযান বন্ধ রয়েছে। আমরা আপৎকালীন রুট হিসেবে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমে জেটি ঘাটের প্রস্তাব দিয়েছি। এটি ব্যবহার করা গেলে সেখান থেকে নৌযান চলবে। এছাড়া বিষয়টি জেলা প্রশাসন অবহিত করা হয়েছে। শাহপরীরদ্বীপ ঘাট ব্যবহারে সমস্যা হলে সরাসরি কক্সবাজার থেকে পণ্য সরবরাহ করা হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. ইয়ামিন বলেন, সেন্টমার্টিন পণ্য পাঠাতে করণীয় নির্ধারণে বুধবার বিকেলে একটি বৈঠক করা হবে । বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আমরা যে কোনো উপায়ে দুই একদিনে দ্বীপটিতে পণ্য পাঠাতে বদ্ধ পরিকর।
