ঈদুল আজহার তিন দিন আগেও বরিশালের পশুর হাটগুলো জমে ওঠেনি। এতে বিভিন্নস্থান থেকে আসা গবাদিপশুর ব্যাপারীরা পড়েছেন বিপাকে। কেউ কেউ শঙ্কায় আছেন বেচা-বিক্রি নিয়ে। তবে এবার গবাদিপশু লালন-পালনের জন্য খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা হাকিয়েছেন আকাশ ছোঁয়া দাম।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন বরিশাল নগরীসহ আশপাশ এলাকার মধ্যে কাগাশুরা, রূপাতলী ও বাঘিয়া পশুর হাটগুলো এখনো জমে ওঠেনি। অল্পসংখ্যক গরু নিয়ে কিছু বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই আপরদিকে বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হাট চরমোনাইতেও একই অবস্থা। এ হাটে বিক্রেতাদের ভিড় থাকলেও ক্রেতাদের খোঁজ নেই।
আর জেলার বানারীপাড়া উপজেলার গুয়াচিত্রাসহ কয়েকটি হাটে এখন পর্যন্ত বেচা-কেনার সমাগম শুরু হয়নি। এসব হাটে আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর, বাগেরহাট থেকে গরু আসছে।
বরিশাল নগরীর রুপাতলী হাটে আসা বাগেরহাটের মোল্লারহাটের গবাদিপশুর ব্যাপারী মো. ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, ‘এবার বরিশালে ১৪টি গরু নিয়ে আসছি। একদিন হলো, কিন্তু একটিও বিক্রি হয়নি। মোল্লারহাট থেকে বরিশাল পর্যন্ত আসতে প্রতি গরুর পেছনে ২৫০০ টাকা করে খরচ হয়েছে। আমার এখানে ১ লাখ থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকা দামের গরু আছে। তবে এবার গতবারের চেয়ে দাম একটু বেশি। কারণ গরুর খাবারের দামসহ আনুসাঙ্গীক সকল খরচ বেড়ে গেছে। সেই খরচ উঠিয়ে লাভও রাখতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে গরু বিক্রি হবে কিনা সেই শঙ্কায়ও আছি।
অন্যদিকে পটুয়াখালী মহিপুরের জয়নাল আবিদিন হাটে আসছেন তার সখের গরু ‘রাজা বাহাদুর’-কে বিক্রি করতে। দেখতে পুরোটাই সাদা। ওজন ১০ থেকে ১২ মণ। দাম চেয়েছেন ৫ লাখ। কিন্তু বাজারে ক্রেতার অভাবে গরুর একপাশে বসেই তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। এসব জয়নাল আবিদিন বলেন, ‘রিমালের আঘাতে ঘর-বাড়ি সব কিছু উড়াইয়া নিয়া গেছে। শুধু আমার গরুটি ছিল। শখ করে ওর নাম রেখেছি ‘রাজা বাহদুর’। টাকার প্রয়োজনে হাটে উঠিয়েছি। কিন্তু ক্রেতার অভাবে লাভ না হলেও ছেড়ে দেব।
নগরীর কাগাশুরা পশুর হাটের ব্যাপারী মো. হাসান হাওলাদার বলেন, ‘হাটে ৫টি গরু নিয়ে আসছি। এখনও বাজার মেলেনি। শুক্রবার একটু জমজমাট হতে পারে।’
বরিশাল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিভাগের ছয় জেলায় ২৬ হাজার ৫৭৮ জন খামারি কোরবানিযোগ্য ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৪ পশু লালন পালন করেছেন। আর বিভাগে এবারের কোরবানিতে মোট পশুর চাহিদা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬১১টি। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪৭টি, আর মজুত রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৭টি। এ ছাড়া এ বছর বিভাগের ছয় জেলায় ৩২৮টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১৩৬টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম হাটগুলোয় কোরবানিযোগ্য পশুর সুস্থতা পরীক্ষা করবে।
প্রতারণার ফাঁদে পড়ে হজে যেতে পারেননি মা-ছেলে, গ্রেপ্তার ২
নৈসর্গিক কিংসটাউনে বিপদ হতে পারে সেই ‘বাতাস’