সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর খবরটা কেন জানি আমাকে বেশ স্পর্শ করে গেল। কেননা মৃত্যুর ঠিক দুদিন আগে আমি ওর ব্যোমকেশ মুভিটা দেখলাম। ওটাই ওর প্রথম মুভিটা, আমার দেখা। এর আগেও হিন্দিও দেখিনি। কিন্তু সুশান্ত মাহেন্দ্র সিং ধোনির বায়োপিক করে গোটা ভারতজুড়ে বিশাল তারকা।
যাহোক, ব্যোমকেশ আমার বেশ ভালো লেগেছিল, আর সেই অভিনেতা দুদিন পরে মারা যাবে এটা আমার কাছে কেন জানি স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সুশান্তের মৃত্যুর বিষয়টা আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখলো। গুগলে, ফেসবুক ওর ছবি দেখলে বিশ্বাসই করতে মন চায় না ছেলেটা মারা গেছে।
মৃত্যুটা নানাদিক থেকে খটকা লাগার মতো, কেননা দুদিন আগেই সুশান্তের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী মেয়েটা ছাদ থেকে পড়ে মারা গেল। একটা সময় ঠিক করলাম, সুশান্তকে কেন্দ্র করে একটা উপন্যাস লিখবো। এই উপন্যাসের শুরু ঢাকাতে, শেষ হবে বিহারের পূর্ণিয়াতে, সুশান্তের পৈত্রিক বাড়ি। লিখতে হলে তো পূর্ণিয়া যেতে হবে। উপায় খুঁজছিলাম। গত বছরের জুলাইয়ে চলে গেলাম।
যাত্রাপথ সহজ করার জন্য হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেলাম। সেখান থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, বালুরঘাট থেকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। সেখান থেক বাস বদলে জলপাইগুড়ির আগে পূর্ণিয়া মোড়, পূর্ণিয়া মোড় থেকে চলে গেলাম পূর্ণিয়ায়। সারাদিনের যাত্রাশেষে হোটেল খুঁজতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছিলাম। অধিকাংশ হোটেলে বিদেশি অ্যালাউ না। পরে একটা মকানসম্মমত হোটেলে গিয়ে উঠলাম।
খেয়াল করলাম শহরটা সুশান্তক মনে রেখেছে। একটা শহরের নাম রেখেছে সুশান্ত সিং রাজপুত সড়ক। এখানে বিভিন্ন জায়গার নামের সঙ্গে যুক্ত ‘চক’ শব্দটা। তেমনই একটি মোড়ের নাম ফোর্ড কোম্পানি চক, সেটার নাম পরিবর্তন হয়ে এখন ‘সুশান্ত সিং রাজপুত চক’।
পরেরদিন সুশান্তের বাড়ি গেলাম। পূর্ণিয়া শহর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা এই বাসে ৪৮ কিলোমিটার গেলে বারহারাকোঠি সাবডিস্ট্রিক্ট পাওয়া যাবে। বাসস্ট্যান্ড থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে মালদিহা নামের এক গ্রাম। এই গ্রামটাই সুশান্ত সিং রাজপুতের পৈতৃক বাড়ি। এখন এই বাড়িতে বসবাস করেন সুশান্তের বড় চাচা। বাড়িতে সুশান্তের স্মৃতিচিহ্ন, কয়েকটা ছবি রয়েছে দেয়ালে। সেসব ছবিতে মালা পরানো।
সুশান্তের চাচাতো ভাই পান্না সিং রাজপুত বললেন, ‘সুশান্তকে আমরা চিনি, সে কখনো আত্মহত্যা করতেই পারে না। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’ কেন মেরে ফেলা হয়েছে, এর খুব সহজ জবাব রয়েছে পান্নার কাছে। বললেন, ‘বলিউডে অন্যান্য নায়কের উত্থানের তুলনায় সুশান্তের উত্থান ছিল দ্রুত। অনেকেই বুঝে গিয়েছিল সুশান্ত অনেকের মাথাব্যথার কারণ, তাই তাকে সরিয়ে ফেলো, সরিয়ে ফেলা হলো। সুশান্ত বেঁচে থাকলে আজ অনেক বড় সুপারস্টার স্ক্রিন থেকে সরে যেত, হারিয়ে যেত।’
এটা একটা খুব কঠিন সফর ছিল। পূর্ণিয়া থেকে ফিরে সেই উপন্যাসটা লিখেছি। গত বইমেলায় সেটা প্রকাশও হয়ে গেছে।
সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল সুশান্তের সঙ্গে?
প্রেমিকাকে বাজে মেসেজ, ভক্তকে পিটিয়ে মারেন নায়ক!
সিনেমা চালানোর জন্য মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করিয়েছিলেন বুবলী!
সুশান্তকে ধারণ করেছে যে শহর