সুশান্ত সিং রাজপুতের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। এমনই এক দুপুর বিষাদময় হয়ে উঠেছিল আকস্মিক এই মৃত্যু সংবাদে। কিভাবে সম্ভব? এটা সত্য হতেই পারে না। দুদিন আগে তার ব্যক্তিগত সহকারী ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে, সে খবরই নাকি এটা? বারবার ঘেঁটে বিস্ময়ের ঘোর কাটে, সুশান্ত মারা গিয়েছেন। তার ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধ্যার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দাবি, নিজের ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেন সুশান্ত। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তা–ই বলছে। এখনো ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন, ১৪ জুনের ওই অভিশপ্ত দুপুরে বান্দ্রার কার্টার রোডের মাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যাপার্টমেন্টে ঠিক কী হয়েছিল?
ম্যানেজার সিদ্ধার্থ পিঠানির বক্তব্যে জানা যায়, ‘১৪ জুন সকাল ১০টা–সাড়ে ১০টার দিকে ড্রইংরুমে গান শুনছিলাম। সেই সময় সুশান্তের স্টাফ কেশব এসে আমায় জানায়, স্যার (সুশান্ত) দরজা খুলছে না। এরপর আমি এই কথাটা দীপেশকে বলি। আমরা দুজনে সুশান্তের ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিই, কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।’
ওই সময় সুশান্তের বোন মিতু সিং সিদ্ধার্থ পিঠানিকে ফোন করে জানান, সুশান্তকে ফোন করছেন, জবাব মিলছে না। দরজা ধাক্কিয়েও কোনো উত্তর না পেয়ে মিতু সিংকে জানান সিদ্ধার্থ, দ্রুত তাঁকে আসতে বলেন। এরপর বিল্ডিং গার্ডের কাছ থেকে চাবিওয়ালার খোঁজ নেন দীপেশ। তাঁর কাছ থেকে কোনো খোঁজ না পেয়ে ইন্টারনেট থেকে মুহাম্মদ রাফি নামের এক চাবিওয়ালার নম্বর জোগাড় করে ফোন করেন পিঠানি। বেলা ১টা ২০ মিনিটে নাগাদ সেই চাবিওয়ালা এসে জানান, চাবি তৈরিতে সময় লাগবে। তালা ভাঙার নির্দেশ দেন পিঠানি। ফোনে এই সিদ্ধান্ত মিতু সিংকেও জানান সিদ্ধার্থ। তালা ভাঙা হলে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি এবং দীপেশ।
সুশান্ত মামলার গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ পিটানি আরও বলেন, ঘর ছিল অন্ধকার। আলো জ্বেলে তাঁরা দেখেন, সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে সুশান্তের দেহ। মুখটা জানালার দিকে ফেরানো। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে মিতু সিংকে ঘটনা জানানো হয়, এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন।
সুশান্তের অন্য বোন নীতু সিংকেও গোটা ঘটনা জানান পিঠানি। কিছু সময় পর আবার ফোন করেন নীতু। তাঁর স্বামী আইপিএস অফিসার ওপি সিং সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ নামাতে বলেন। তাঁরা সুশান্তের দেহ নিচে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। ততক্ষণে মিতু সিং চলে আসেন। তাঁর কথামতোই সুশান্তের নিথর দেহে প্রাণ আছে কি না, দেখার চেষ্টা করেন পিঠানি। এরপর বান্দ্রা পুলিশের একটি টিম অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছায়।
নীরাজ বলেন, ‘আমি দেখলাম, গলায় সবুজ রঙের একটা কুর্তা পেঁচানো অবস্থায় সুশান্ত স্যারের দেহটা ঝুলছে সিলিং থেকে। আতঙ্কে ঘর থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসি। ছুরি আনার পরে আমরা দুজনে কুর্তা কেটে আস্তে আস্তে স্যারের দেহটা নিচে বিছানায় নামাই। ঠিক এই সময় মিতু দিদি ঘরে প্রবেশ করেন এবং ভাইয়ের দেহ দেখে চিৎকার করে বলে ওঠেন “গুলশান [সুশান্ত সিং রাজপুত], তুই এটা কী করলি?” এরপর উনি আমাদের বলেন স্যারকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিতে।’
সুশান্তের জন্ম ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি। একসময় দিল্লিতে চলে আসে তাঁর পরিবার। দিল্লি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও ভর্তি হন। কিন্তু সেই সময় থেকেই থিয়েটারের দিকে ঝোঁকেন তিনি। নাচও শেখেন। এ জন্য পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি। ২০১৩ সালে ‘কাই পো চে’ ছবি দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক।
প্রেমিকাকে বাজে মেসেজ, ভক্তকে পিটিয়ে মারেন নায়ক!
সিনেমা চালানোর জন্য মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করিয়েছিলেন বুবলী!
আ.লীগ নেতা মিন্টুর তথ্যে ফাঁসছেন রাঘববোয়ালরা