কেউ যদি বলিউডে সফল হতে চায়, তবে তার জন্য কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে সঙ্গে ভাগ্যকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও কেউ কেউ বলিউডে সুপারস্টার হওয়ার জন্য শুধু একটি ছবি বেছে নেয়। কিন্তু অনেক অভিনেতাকে সুপারহিট ছবি দেওয়া সত্ত্বেও তাদের ক্যারিয়ার ফ্লপ হয়ে যায়। আবার অনেক অভিনেতা আরেক অভিনেতার প্রত্যাখ্যান করা ছবি করেও ইতিহাস তৈরি করেন। আর তেমনি একজন অভিনেতা হলেন সালমান খান। তিনি আমির খানের প্রত্যাখ্যাত সিনেমা ‘হাম আপকে হ্যায় কন’-এ অভিনয় করে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। সুরজ বরজাতিয়া রচিত এবং পরিচালিত এবং রাজশ্রী প্রোডাকশন প্রযোজিত এই ছবিটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়ার পর সালমান খানের ভাগ্য বদলে যায়। ছবিটি আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার হয়ে ওঠে। এই সিনেমার জন্য আমির খানকে তার নিষ্পাপ চেহারার কারণে বেছে নিয়েছিলেন সুরাজ বরজাতিয়া। সুরজ বরজাতিয়া যখন এই ছবির অফার নিয়ে আমির খানের কাছে গিয়েছিলেন, সে সময় অভিনেতা ছবিটির স্ক্রিপ্ট পড়ে কোনো আবেদনময়ী চরিত্র খুঁজে পাননি। তাই তিনি প্রেমের চরিত্রে অভিনয় করবেন না বলে জানান। এরপর সালমান খানের কাছে যান সুরজ বরজাতিয়া। এ সময় সালমান খান তার ক্যারিয়ারের একটি খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। কথিত আছে, সালমান আর্থিকভাবে খুব খারাপ অবস্থায় ছিলেন এবং যে কারণে তিনি এই ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য সম্মতি দিয়েছিলেন। আর এই সিনেমাটি এতটাই সুপারহিট হয়ে ওঠে, এটি বক্স অফিসে ইতিহাস সৃষ্টি করে এবং সালমান খানের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘হাম আপকে হ্যায় কন’ ছবিটি ভারতে ১০০ কোটি রুপি আয় করা প্রথম সিনেমা। আর মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হলে এটি ১৯৯০ দশকের সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় সিনেমা এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী বলিউড চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি।
×
