সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি, ধরছে না পুলিশ

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ১০:২৯ পিএম

খুলনায় সাজাপ্রাপ্ত দুই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী হলেও গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়িয়ে যথারীতি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। দুই কর্মকর্তা হলেন বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক মো. মোসলিম উদ্দিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম।

মামলা নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে জাল সার্টিফিকেটে চাকরি করছেন এমন অভিযোগে জেলার তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলামকে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ২০১৮ সালে ওই শিক্ষক চাকরিতে বহাল ও বকেয়া বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় উপপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রতিপক্ষ করে খুলনা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে এ.টি ১১/২০১৮ নং মোকদ্দমা দায়ের করে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা সূত্রে ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর শিক্ষক পক্ষে রায় পায়। সরকার পক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে ২১১/২০২২ নং মোকদ্দমা দায়ের করলে তা নামঞ্জুর হয়। এরপর সরকার পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ-টু-আপিল মোকদ্দমা নং— ১২৩৩/২০২৩ দায়ের করে। সিভিল পিটিশন ফর লিভ—টু—আপিল মোকদ্দমা ২০২৪ সালের ১৩ মে নামঞ্জুর হয়। সেইসাথে আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখে অর্থাৎ মূল মোকদ্দমার রায় ডিগ্রী বহাল ও বলবৎ থাকে।

অন্যদিকে রায় বাস্তবায়নে শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলাম প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে প্রচারিত রায় ডিগ্রী বাস্তবায়নে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর বাস্তবায়ন—জারী মোকদ্দমা নং— ০৪/২০২২ মামলা দায়ের করেন। দায়িকপক্ষ ওই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহাল না করায় আদালত বিগত ২০২৩ সালেই চার কর্মকর্তাকে সিভিল জেলে আটক রেখে প্রার্থীত দাবি আদায়ের জন্য খুলনা জেল সুপার বরাবর খোরাকী বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থের প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ প্রদান করেন। জেল সুপার প্রতিবেদন দাখিল করেন।

কিন্তু ধার্য তারিখের মধ্যে প্রতিপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ও ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৪ জুন খুলনা প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ১৯৮০ সালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইনের ৭(৬)/৯ ধারা এবং ১৯৮২ সালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল রুলস্ এর বিধি—৭ তৎসহ দেওয়ানী কার্যবিধি ২১ আদেশের ৩৭/৩৮/৩৯ বিধি মতে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। কারাদণ্ড কার্যকরী করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারী করে আদালত।

এ ব্যাপারে শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, দুই কর্মকর্তা দাপ্তরিক কার্যক্রম যথারীতি পরিচালনা করছেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না। তাই দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

তবে জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অহিদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনের উপরে কেউই না। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী রয়েছে। ঈদের পরই গ্রেপ্তার হবে এমনটি জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত