সবাই ছুটিতে গেলে নিরাপত্তা দেবে কে 

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৪, ০৮:২৬ এএম

রাজধানীর  বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় গিয়ে দেখা যায় প্রধান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন একদল পুলিশ সদস্য। তাদের কেউ মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন, কেউ বা মুসল্লিদের মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বের হওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছেন, আবার অন্য সদস্যরা তৎপর মসজিদের সামনের রাস্তার গাড়িগুলো সড়িয়ে দিয়ে যানবাহন ও মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা। 

দায়িত্বপালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৭টা থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শুরু হয়। তাই তাদের ডিউটি দেওয়া হয় সকাল ৬ টা থেকে। তাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে ইউনিফরম পরেই তৈরি হয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে তাদের কেউ কেউ ঈদের জামাত পড়েছেন মুসল্লিদের সঙ্গে। 

ঈদের দিন সবাই যখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে তখন আপনারা দায়িত্ব পালন করছেন এ নিয়ে খারাপ লাগছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, যেদিন থেকে ইউনিফরম পড়েছি সেদিন থেকে দেশের সেবাই সবার আগে। ঈদে রাজধানী ছেড়ে মানুষ গ্রামে চলে যায় ফলে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার একটা শঙ্কা থাকে। তাই এ সময় আমাদের বেশী তৎপর থাকতে হয়। এই যে মুসল্লীরা নির্বিঘ্নে নামাজ পড়তে পারছেন এতেই আমাদের আপত্তি। 

পরিবারের কথা মনে পড়ে কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, তা তো মনে পড়েই। এই যে ডিউটির ফাঁকেও আমরা একে অন্যের সঙ্গে বাসার গল্প করি। ঘুম থেকে উঠেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। ডিউটি শেষ করে ফিরতে ফিরতে আবার কথা হবে। সত্যি বলতে আমাদের পরিবারের সদস্যরা মন খারাপ করলেও আমাদের বাস্তবতা মেনে নেন। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সূত্রে জানা গেছে, মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় ৮টায়, তৃতীয় ৯টায়, চতুর্থ সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। 

সারা দেশে যখন ঈদের আমেজ চলছে। তখন মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কাজ করে চলছেন পুলিশ সদস্যরা। পশুর হাটের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে রাস্তায় যাতে যানজট না লাগে, অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা না ঘটে, মানুষের যানমালের যেন কোনো ক্ষতি না ঘটে সে জন্য নিজেদের পরিবার-পরিজনকে দূরে রেখে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন তারা।

ট্রাফিক পুলিশ এ আর খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের ঈদ সড়কে মানুষের জন্য।আমাদের বউ বাচ্চারা আমাদের পায়না। সকাল থেকে কয়েকবার ফোন দিয়েছে  কেবল বলেছি আসবো। কিন্তু কবে আসবো তা বলিনি। এরপরও ভালো আছি এই ভেবে মানুষের জন্য দেশের জন্য কাজ করছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত