উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীসহ সবগুলো নদীতেই পানি বাড়ছেই। ফলে যমুনা নদীর বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক বাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, পাড় মহোনপুর, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর,পাকুরতলা গুচ্ছগ্রাম ও কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাচিল, শরিফমোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া কাজীপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার চর ও নিচু এলাকায় বন্যার পানি ঢোকায় চরাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়া শুরু করেছে। ফলে কৃষকরা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
শুক্রবার (২১ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার)।
অপরদিকে কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে পানি (বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার)।
ভাঙন কবলিতরা জানান, শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়ায় মানুষজন তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। গত ২ বছরে এ এলাকার শতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকার ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিলেও ঠিকাদার এবং পাউবোর গাফিলতিতে প্রকল্পটির কাজ ধীরগতিতে চলতে থাকায় এলাকাবাসী ভাঙন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ফলে প্রতিবছরই এ এলাকার শতাধিক মানুষ নতুন করে বাসস্থান হারিয়ে বাস্তুচ্যূাতির শিকার হচ্ছে।
জালালপুর ইউনিয়নের মোতালেব ও আব্দুস সালাম বলেন, ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ এলাকার অন্তত সাতটি গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, চরের জমিতে চাষবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় সেই চরের ফসলের ক্ষতি হয়। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। এ বছর চরের ১ বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করছি। পানি বৃদ্ধির ফলে সে তিল ডুবে যাওয়ার উপক্রম। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে ৪-৫ দিনের মধ্যে তা তলিয়ে যাবে। তখন পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
কাজীপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, বন্যার পানি দেখলেই ভয় করে। চরের নিচু জমিতে পানি উঠতে শুরু করছে। দুই বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে ফসল ঘরে তুলতে পারব কিনা জানি না। এছাড়া পাট নিয়েও দুঃশ্চিন্তায় আছি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, এই মূহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি এভাবে বাড়লে অনেক ফসল তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ কাজ শেষ হলে এখানে আর ভাঙন থাকবে না।
সিলেটে বন্যায় ৭ লাখ ৭২ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত
ইউএনওর প্রত্যাহার চান পল্লীবিদ্যুৎ কর্মচারীরা