স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ বলেছেন, এই বাজেটে খুব বেশি পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ বাজেট নিয়ে প্রতিবছরই সংসদে আলোচনা হয়। তারপর দুই একটা পরিবর্তন হয়। সংসদে মাননীয় স্পিকার জিজ্ঞেস করেন আপনারা যারা এই প্রস্তাবের পক্ষে আছেন তারা ‘হ্যাঁ’ বলেন। হ্যাঁ হ্যাঁ..। যারা বিপক্ষে আছেন তারা না বলেন। এরপর ‘না’ আর শোনা যায় না। আমার ৬ মাসের (সংসদ সদস্য হিসেবে) অভিজ্ঞতায় কখনও ‘না’ শুনিনি (হাসতে হাসতে)। আমি অনেক সময় হাতটা নিচে নামিয়ে রাখি, কিছুই বলি না। আবার অনেক সময় হ্যাঁ বলি। কারণ গুরুত্বপূর্ণ অনেক লোকজন আমার সামনে বসে থাকেন।
আজ রবিবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্রাক ইন সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে বাজেট বরাদ্ধ নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
দেশের উন্নয়নে নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সংকোচন করারও পরামর্শ দিয়ে এ কে আজাদ বলেন, কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম সরকারের জুনিয়র কর্মকর্তা এসিল্যান্ড, ইউএনওদের জন্য বিদেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার পাজেরো ল্যান্ডক্রজার গাড়ি আনা হচ্ছে। ভারতের মন্ত্রীরা কিন্তু তাদের দেশীয় তৈরি গাড়ি ব্যবহার করেন। আমাদের দেশের বড় বড় সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে গাড়ি পেছনে গাড়ি। খালি গাড়ির পর গাড়ি। কারণ স্যার যাচ্ছেন তার জন্য সরকারি কয়েকটা গাড়ি লাগবেই। তাদের অফিসও করতে হয় না। সরকারি অর্থের কিভাবে অপচয় হচ্ছে এটা তার একটা উদাহরণ।
বিবিএস'র তথ্যের উদ্বৃত্তি দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ যুব সমাজ বেকার। এই যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প নেই। সরকারের প্রতিটি স্তরে স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়।
এ কে আজাদ বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানা সচল রাখতে উচ্চমূল্যের ডিজেল ব্যবহার বাড়ছে। সেই সঙ্গে গ্যাসের মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কোম্পানি বসে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে কারখানার যন্ত্রপাতি, কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি সবমিলে ৪৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে গত বছরের তুলনায়। সামগ্রিকভাবে কমেছে সরকারের রাজস্ব আয়। গতবার এনবিআর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এবার ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার যে লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে সেটা পূরণ করা সম্ভব না। এনবিআর চেয়ারম্যান নিজে এটা স্বীকার করেছেন। এভাবে চললে বিদ্যুৎ খাতে বাজেটে যে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে সেটা আদৌ সরকার দিতে পারবে কী না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
‘তবে এত কিছুর পরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রায় শুন্য থেকে শুরু করে বিদ্যুৎখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে সরকার। ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে এখন ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হয়েছে। এই বিদ্যুতের কারণে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটেছে। এটা সরকারের বড় সাফল্য। কিন্তু এরপরও কিছু ভুল ত্রুটি আছে। সেটা থাকতেই পারে। আমাদের ব্যবসায়ীদেরও অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে। আমরা যারা নীতি নির্ধারক আছি তারা এ বিষয়গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরবো। আশা করছি সরকার এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে,’ যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম তামিম, বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট এর রেক্টর মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম প্রমুখ।
ব্র্যাভোর ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানে নাচলেন আফগানরা
জীবিত রাসেলস ভাইপার নিয়ে হাজির কৃষক, বিপাকে বন কর্মকর্তারা
নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে তিন শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু
আজ রাতে ঘুমাতে পারবেন না রশিদ খান, তবে অন্য কারণে...