এই সময়ের ব্যস্ত টেলিভিশন অভিনয়শিল্পীদের একজন সাফা কবির। নিয়মিতভাবে এবারের ঈদে সাফা কবিরের বেশকিছু নাটক মুক্তি পেয়েছে। কিছু নাটক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কথাও হচ্ছে। নাটক ও নাটকের বাইরের বিষয় নিয়ে জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন
এবারের ঈদে কী কী কাজ করলেন, প্রতিক্রিয়া কী ধরনের পাচ্ছেন?
মহিদুল মহিমের ‘অনন্ত প্রেম’ রুবেল আনুশের ‘ফিদা’ মাহমুদ মাহিমের হ্যাপি ম্যান, ইমনের ‘ভ্যানিশিংম্যান’ এবারের ঈদের মুক্তিপ্রাপ্ত নাটক। আমি বরাবরই গল্পের বিষয়ে একটু ভাবতাম একটু সিরিয়াস ধরনের কাজ করি। কিন্তু এবার মনে হলো আমি একটু হালকা ও রোমান্টিক ধরনের গল্পে কাজ করব। সেভাবেই আমি কিছু গল্প পছন্দ করলাম। এখন দেখছি দর্শকরা খুব পছন্দ করছে কাজগুলো। প্রতিটি কাজে অনেক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি, সবগুলোও ইতিবাচক। তার মানে গল্পগুলো সিলি নয়, মানুষরা নিজের সঙ্গে সম্পর্কিত করতে পারছেন।
কেমন সেটা?
এই ধরেন হ্যাপিম্যান নাটকে নাক ডাকার একটা স্টোরি আছে। আমার স্বামী সবখানে ঘুমিয়ে পড়ে নাক ডাকে। বাসায়, অফিসে এমনকি চলন্ত বাসেও ঘুমিয়ে পড়ে নাক ডাকার আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে তার। এমন একজন মানুষকে আমি ভালোবাসা দিয়ে তার বাজে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে ফেলেছি। এখানে আমার স্বামীর ভূমিকায় তৌসিফ মাহবুব অভিনয় করেছেন। এমন ঘটনার মুখোমুখি অনেকেই, যারা আমাকে মেসেজ করছেন, বলছেন।
অনেক ভালো ভালো নাটকের কথা বলছেন, নাটকের বাজেট সমস্যা কি এখন নেই?
অবশ্যই নেই। এখন তো অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। নাটকের বাজেট না বাড়লে তো এসব হওয়া সম্ভব না। বাজেট বেড়েছে, নাটকের গুণগত মান বেড়েছে। গল্পের বৈচিত্র্য বেড়েছে, শুটিং লোকেশনে সীমাবদ্ধ নেই। ফলে দর্শকদের সামনে আমরা ভালো ভালো কাজ নিয়ে হাজির হতে পারছি। বাজেটের সীমাবদ্ধতা থাকলে এসব সম্ভব হতো না।
শরাফ আহমেদ জীবনের সঙ্গে আপনার জুটি তৈরি হয়েছিল, সেটা কিন্তু এই ঈদে দেখা গেল না...
দেখুন অমি ভাইয়ের গুডবাজ, ব্যাডবাজ, লাভবাজ নাটকগুলো দর্শকরা বেশ ভালোভাবেই নিয়েছে। ভালো লেগেছে। প্রচুর মন্তব্য পেয়েছি। কিন্তু এসব কোনোটিই, কোনোটির আসলে সিক্যুয়েল করে বানানো হয়নি বা সিক্যুয়েল বানানো হবে এমন কোনো কথাও ছিল না। শুধু জীবন ভাই না, পুরো টিমকে মিস করেছি। কিন্তু ওই টিমের পলাশ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ হয়েছে।
পলাশের সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন কিন্তু প্রথমবার জুটি বাঁধলেন...
এটা ঠিক বলেছেন। জিয়াউল হক পলাশ ভাইয়ার সঙ্গে অনেকগুলো কাজ করেছি। সবগুলোতেই তিনি আমার বন্ধু বা ফ্রেন্ড সার্কেলের কেউ। কিন্তু ভ্যানিশিংম্যান নাটকে আমরা পরস্পর প্রথম জুটি বাঁধলাম। একটু তো আলাদা কাজ হয়েছে এটা বলতেই হবে। আর পলাশ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার সবসময়ই ভালো। সবচেয়ে বড় কথা তিনি নাখালপাড়ার আমিও নাখালপাড়ার ফলে এলাকার একটা বিষয় তো আছেই।
শুটিং করেছেন, কিন্তু মুক্তি পায়নি এমন নাটক...
হ্যাঁ। অবশ্যই। ‘নীল দরিয়া’ ও ‘দম’ নামের দুটি নাটক রয়েছে। এসব মুক্তি পায়নি। আমার খুবই পছন্দের কাজ। নাটকগুলো রিলিজের অপেক্ষায় আমি নিজেও রয়েছি।
অভিনেত্রী হিসেবে বাংলাদেশের কাকে আপনার পছন্দ?
অনেকেই আমার পছন্দের। আমার ভীষণ ভীষণ পছন্দের অভিনেত্রী অপি করিম, তাকে আমি মনে মনে অনেক শ্রদ্ধাও করি। সুবর্ণা মুস্তাফা আপুর পুরাতন অভিনয় ইউটিউব থেকে বের করে দেখি, আফসানা মিমি আপুর অভিনয় আমাকে আকৃষ্ট করে।
শুটিং থাকে না যখন?
তখন আমি বাসায় থাকি। আমি ঘরকুনো মানুষ। বাসায় থাকতেই ভালো লাগে, পরিবারের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাই, রান্নাবান্না করি। প্রচুর পরিমাণে আমি সিনেমা দেখি, বই পড়ার চেয়ে সিনেমা দেখতে আমার ভালো লাগে। আর ফ্রি থাকলে নিজের কন্টেন্ট বানাই এই তো...
