প্রতিকার পান না ভুক্তভোগীরা

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৪, ০১:২৯ এএম

দেশে সাইবার অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সাইবার অপরাধ বা হেনস্তার শিকারদের মধ্যে প্রতি ১০০ জনে মাত্র ১২ জন আইনি সহায়তা চান। বাকি ৮৮ শতাংশ ভুক্তভোগী কোনো আইনি পদক্ষেপে যান না। অবশ্য যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন, তাদের ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশই আবার কোনো সুফল পাননি। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিক্যাফ) উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধপ্রবণতা ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

সাইবার অপরাধের শিকার ১৩২ জন ভুক্তভোগীর স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিক্যাফ। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন সিক্যাফের গবেষণা দলের প্রধান ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ আল মারজুক।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৭৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের মানুষ। আর ১৮ বছরের কম অর্থাৎ শিশুদের আক্রান্তের হার ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বাকি ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী ৩১ বছর ও এর চেয়ে বেশি বয়সের। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯ শতাংশই নারী।

অপরাধের ধরনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং। এ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পর্নোগ্রাফি অপরাধপ্রবণতাও আশঙ্কাজনক। এ ধরনের অপরাধের হার ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা বেশিরভাগই সামাজিক মর্যাদাহানির কথা বলেছেন। ৪৭ দশমিক ৭২ শতাংশ ভুক্তভোগী বলেছেন, তারা সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে সামাজিক যে মর্যাদা ছিল সেটি হারিয়েছেন। এ ছাড়া ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ অপরাধের শিকার সবাই মানসিকভাবে কাতর ও চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে সাইবার অপরাধে আক্রান্তদের অধিকাংশই শিক্ষিত হলেও আইনের আশ্রয় নেওয়ার হার খুবই কম। মাত্র ১২ শতাংশ ভুক্তভোগী আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ, আর লিখিত অভিযোগ করেছেন ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

হতাশাজনক তথ্য হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো ধরনের সুফল পাননি ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ভুক্তভোগী। বাকি ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ ভুক্তভোগী বিচার বা সুফল পাওয়া নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের মধ্যে অনেকের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সাইবার অপরাধে ভুক্তভোগীদের মধ্যে এইচএসসি পাস ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ ছাড়া ২১ দশমিক ২১ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী। প্রতিবেদনের সুপারিশের অংশে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য সরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়া দরকার। উৎকর্ষতা অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে হবে। আমদানিনির্ভর হওয়ার পরিবর্তে সাইবার সুরক্ষায় ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর জরিপের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করা হয় সেমিনারে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিক্যাফ উপদেষ্টা প্রকৌশলী মো. মুশফিকুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজমুস সালেহীন, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ইশতিয়াক আহমেদ, আইডিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক হুসেইন সামাদ, বিটিআরসির মহাপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্নেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ এ হুসেইন প্রমুখ।

সিক্যাফ সভাপতি কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুরুন আশরাফী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত