বাগাতিপাড়ায় যুবলীগ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসেনি ১০ বছরেও

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ১০ বছর আগের কমিটি দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা যুবলীগ। যুবলীগের সম্মেলন না হওয়ায় গ্রপিং এ উপজেলা আওয়ামী লীগের মতো ত্রি-খণ্ডিত যুবলীগ নেতাকর্মীরা। নেই দলীয় চেইন আব কমান্ড। এতে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে যুবলীগ। সম্মেলন না হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। ঝড়ে পড়ছে অনেক প্রতিভাবান নেতা। দীর্ঘ সময় কমিটি না থাকলেও সম্মেলনে নেই তোড়জোড়। এতে করে হতাশায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৪ সালে উপজেলা যুবলীগের কমিটি গঠন হয়। সভাপতি হিসেবে নাছিম মাহামুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামরুল ইসলাম নির্বাচিত হন। তিন বছর মেয়াদী কমিটির কথা থাকলেও ১০ বছর অতিবাহিত হলেও হচ্ছে না সম্মেলন। নেতাদের বয়স কারও ৫০ ছুঁই ছুই, কারও বয়স ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। বয়সের কারণে না পারছেন ছাত্রলীগে থাকতে আবার পদ পদবিও পাচ্ছেন না যুবলীগে। আবার উপজেলা আওয়ামী লীগ ত্রি-মুখী অবস্থানে থাকায় শীর্ষ নেতাদের নিজেস্ব বলয়ে মূল দলের নেতৃত্বে জায়গা করে নিয়েছে অনেকেই। সময়ের পরিবর্তনে বেড়েছে নেতাদের ব্যস্ততা। পরিবর্তন হয়নি শুধু নেতৃত্বে। এতে সাংগাঠনিক কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মোল্লা জামান, তাদের উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যুবলীগের কমিটি হয় না দীর্ঘ বছর যাবত। নতুন কমিটি না হওয়ায় তারা কোনো পদ-পদবিতেও যেতে পারছেন না। এদিকে বয়স তো থেমে নেই।

তিনি আরও বলেন, যুবলীগের কোনো কর্মকাণ্ড উপজেলায় নেই। সংগঠন না থাকলে কর্মকাণ্ড থাকে না। আবার ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় যারা ছাত্রলীগ করতে ইচ্ছুক তারাও ছাত্রলীগ করতে পারছেন না, তাদেরও বয়স দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে সম্মেলন না হওয়ায় যুবলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশায়। তাই ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দুটি কমিটির নতুন করে গঠন করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

নাম প্রকাশ না করে এক যুবলীগ কর্মী জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ তিন ভাগে বিভক্ত। দলীয় সকল কার্যক্রম পৃথক পৃথকভাবে করে আসছে দলটি। যুবলীগের সম্মেলন হয়নি বহু বছর। যুবলীগের নেতাকর্মীরাও বর্তমানে তিন ভাগে ভাগ হয়ে আছে। উপজেলায় যুবলীগের কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করার মতো চোখে পড়ে না। ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে নতুন করে গঠন করা হয়নি কোনো কমিটি। নেতারা নিজেদের পছন্দের মতো নেতা তৈরি করতে থাকায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব। এতে করে ত্যাগীকর্মীরা নিরব ভূমিকা পালন করছেন। সঠিক নেতৃত্ব তৈরিতে নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সবার আগে এক হওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বাগাতিপাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি ফিরোজুল ইসলাম লাবলু (৪৬) জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তাদের পৌর যুবলীগের কমিটি ঘোষণা হয়েছিল। এরপর আর যুবলীগের কমিটি সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম পৌর এলাকায় বা উপজেলায় দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, আর কত দিন যুবলীগে থাকতে হবে তা তিনি জানেন- না। সেশন জটে আটকে গেছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাসিম মাহামুদ (৪৪) বলেন, ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর সম্মেলনের পর ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠান হয়। এরপর আর নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। যেহেতু জেলা কমিটি এখনোও হয়নি, তাই জেলা কমিটি হওয়ার পর সেন্ট্রাল থেকে অনুমতি দিলে উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব জানান, তাদের জেলা কমিটিই হয়নি প্রায় ২০ বছর থেকে। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা এলে কমিটি করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত