তালেবানে বন্ধ ক্রিকেট; শরণার্থী দল গঠনের আকুতি আফগান মেয়েদের

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪, ১২:০৭ পিএম

কট্টরপন্থী তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে বন্ধ করে দিয়েছিল মেয়েদের ক্রিকেট। ছেলেদের ক্রিকেটে তালেবানদের আপত্তি না থাকলেও ২০২১ সাল থেকে এখনো নারী ক্রিকেট বন্ধ। এর প্রতিবাদে গত তিন বছর ধরেই আফগান পুরুষ দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আফগানিস্তানের সেই বঞ্চিত নারী ক্রিকেটাররাই এবার ক্রিকেটে ফেরার আকুতি জানালেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুণ করছে আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দল। সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল খেলেছে। এরপর থেকেই দেশটির নারী ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।  আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আফগানিস্তানেরও একটি নারী ক্রিকেট দল থাকা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে আফগানিস্তানকে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার কথা। কিন্তু আইসিসি এ ব্যাপারে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তালেবান শাসনের আগে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি পর্যন্ত করেছিল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেই ক্রিকেটাররাই সম্প্রতি আইসিসিকে লেখা এক খোলা চিঠিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আকুতি জানিয়েছে। পাশাপাশি রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন আফগান পুরুষ ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠায় তারা অভিনন্দনও জানিয়েছে।

আফগান মেয়েদের খোলা চিঠিতে লেখা, “আমরা আফগানিস্তানের চুক্তিভুক্ত নারী ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠায় রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন পুরুষ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাই। আমরা তাদের অর্জনে গর্বিত। তবে দুঃখ এটিই, আমরা নারী ক্রিকেটার হওয়াতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারছি না।”

“আমরা ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিকে অস্ট্রেলিয়াতে আমাদের একটি শরণার্থী ক্রিকেট দল গঠনের অনুরোধ জানাচ্ছি। যে দলটি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইস্ট এশিয়ান ক্রিকেট কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই দলটির মাধ্যমে আমরা পুরুষ ক্রিকেটারদের মতোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের সকল নারীদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। যেটি আমরা দেশে থেকে করতে পারছি না।”

“আমাদের লক্ষ্য এই শরণার্থী দলটির মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীর সামনে আমরা আমাদের প্রতিভার প্রমাণ রাখব। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে বসবাস করা নারীদের আশার আলো দেখাব। আফগানিস্তানে নারীদের প্রতি কী অমানবিক আচরণ হচ্ছে, সেটি দুনিয়ার সামনে তুলে ধরব। আমরা আফগানিস্তান পুরুষ দলের মতোই সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা রাখি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত