ক্লাস-পরীক্ষা ও দাপ্তরিক সব ধরণের কাজ বন্ধ রেখে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক আন্দোলনে করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা । অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহারের দাবি তাদের। শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এতে দেশের ৩৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
এই আন্দোলনের কারণে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষকরা আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিবেন বলে আশ্বাস দিচ্ছেন।
এদিকে শিক্ষকদের এই আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আজও সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছেন। বলা চলে একদিকে শিক্ষকরা নিজেদের দাবিতে অনড়, অন্যপক্ষে শিক্ষার্থীরাও। শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন? তার উত্তর জানতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে। কারণ বিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে। হঠাৎ করে শিক্ষকদের ওপর নতুন পেনশন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হোক আমরা তা চাই না। তবে ক্লাস-পরীক্ষা কর্মসূচির বাইরে রাখা হলে আমরা উপকৃত হতাম।’
তারা আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা বুঝেছেন নতুন পেনশন ব্যবস্থায় গেলে অনেক ক্ষতি হবে। তাই সর্বাত্মম আন্দোলন করছেন। অথচ এই আন্দোলনের পাশাপাশি আমরাও কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু শিক্ষকরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন নিয়ে কোন কথা বলেন না। দু’ একজন শিক্ষক ফেসবুকে মতামত দিলেও তা খুবই কম। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নানান কারণে বেকার থাকছেন। এই কোটা পুনর্বহাল হওয়ায় আমাদের সবথেকে বেশি ক্ষতি হবে।
অথচ সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের পর শিক্ষকরা নিশ্চুপ থেকেছেন। কিন্তু এখন যখন নিজেদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তখন আন্দোলনে নেমেছেন। যে আন্দোলন আমাদের কোন উপকারে আসবে না বরং ক্ষতি হচ্ছে।’
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন মুক্তিযোদ্ধা কোটার পক্ষে বলতে গিয়ে কোরআন থেকে যুক্তি তুলে ধরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের সূরা আনফালে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, ‘যারা বিজিত বাহিনী হবে তারা দেশের সম্পদ, চাকরি, অর্থ ও ভূখণ্ডের ৮০ ভাগ অর্থাৎ ৪ ভাগের নিয়ন্ত্রণ পাবে। আর বাকি একভাগ থাকবে দুঃস্থ এতিমদের জন্য।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর যে অন্ধকার যুগের সূচনা হয়েছে সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনোকিছুই দেওয়া হয়নি অথচ তারা ছিল বিজিত বাহিনী।’
এই বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমন নামের এক শিক্ষার্থী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘কোটা আন্দোলন বাতিল চেয়ে আন্দোলন করতে গেলেই শিক্ষকদের একটি অংশ নানাভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেন। কারণ এই আন্দোলনকে তারা সরকারবিরোধী মনে করেন। অথচ সরকারের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিপক্ষে এখন তারাই আন্দোলন করছেন। এটাকে তারা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন তা আমাদের অজানা। তবে আমাদের প্রত্যাশা শিক্ষকরা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ‘কোটা পুনর্বহাল’ বাতিলের দাবিতে একাত্মতা পোষণ করবেন।
