মেয়ের পরকীয়ার বলি সাবেক এমপির স্ত্রী

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৭ পিএম

১৩ বছর আগে সাভারের নিজের বাড়িতে ঘাতকদের হামলার শিকার হন সাবেক সংসদ সদস্য খান মজলিসের স্ত্রী সেলিমা খান মজলিস। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময়ের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে দীর্ঘদিন পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক এক কাহিনী। পিবিআই বলছে, বড় মেয়ে শামীমা তাহের পপির পরকীয়া প্রেমের বলি হয়েছেন তিনি। মেয়ের পরকীয়ার সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় প্রেমিক সুবলকে সঙ্গে নিয়ে পেশাদার খুনির মতোই মাকে হত্যা করেন পপি। 

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই হেড কোয়ার্টারের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। 

বনজ কুমার বলেন, ‘তদন্ত শুরু হলে আমরা ভিকটিমের বড় মেয়ে আসামি শামীমা খান মজলিশসহ বাকি দুই মেয়েকেও সন্দেহের মধ্যে রাখি। আমরা খোঁজ-খবর নেই যে ওই বাসায় কারা কারা আসতো। আমরা জানতে পারি একজন ইলেকট্রিশিয়ান মাঝে মাঝে ওই বাসায় আসতো। কিন্তু, তার বহুদিন ওই বাসায় আসা-যাওয়া নেই। জানতে পারি সে বিগত ৩০ বছর ধরে সাভার থানায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছে। সেই সঙ্গে পাশেই তার একটি বড় মুদির দোকানও আছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা তদন্তের সময় যেসব কথা জানতে পারি তার মধ্যে ঘটনার সময় বাড়ির একটি সুইচ বোর্ড ভাঙ্গা এবং দুইটা তার বের করে রাখার একটা বিষয় উঠে আসছিল। এরপর আমরা আসামি ইলেকট্রিশিয়ান সুবল কুমার রায়কে (৫০) নিয়ে আসি।’

সুবলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘ভিকটিম সেলিমা খান মজলিসের (৬৩) বড় মেয়ে তার স্বামীকে নিয়ে নিচতলায় বসবাস করতেন। সেখানে সে নিয়মিত যাতায়াতের এক পর্যায়ে আসামি শামীমা খান মজলিসের স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ২০০১ সালে আসামি সুবল কুমার রায় এবং শামীমা খান পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এই বিষয়টি ২০০৫ সালে জানাজানি হলে তাকে মারধর এবং অপমান করা হয় এবং তিনি বাসা থেকে চলে যান। তাকে আর এই বাসায় আসতে নিষেধ করা হয়। ২০০৮ সালে সুবল কুমার রায় বিয়ে করেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি আবার সেই বাসায় যাতায়াত শুরু করেন।এই যাতায়াত দেখে ফেলায় সুবল ও শামিমা তাহের পপি মিলে সেলিমা খানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে।’

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দিন ভোরবেলা ফজরের নামাজের সময় ভিকটিম সেলিমা খান মজলিশ ছাঁদে উঠেছিলেন এবং সেখান থেকে দেখতে পান সুবল চুপিচুপি তার বাড়ির দিকে আসছেন। এটা দেখে চিৎকার করতে করতে তিনি নিচে নামছিলেন। এ সময় মেয়ে পপি তাকে জাপটে ধরেন এবং পাশে থাকা একটি ফল কাটার চাকু দিয়ে গলার দুই পাশে তিনটি পোঁচ দেন। এরপর যখন তারা দেখেন তার মা মারা যায়নি, তখন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সুবল ইলেকট্রিক বোর্ড ভেঙে সেখান থেকে দুইটি তার বের করে ভিকটিমের মাথায় ইলেকট্রিক শক দেয় মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য। এই ঘটনায় এখন সুবল, শামিমা তাহের পপি ও সেই সময় বাড়ির গৃহকর্মী আরতি সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত