নেশার টাকা জোগাতে অটোরিকশা ছিনতাই করে চালককে হত্যা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪, ০২:১১ এএম

অনলাইন জুয়া ও নেশার টাকা জোগানোর উদ্দেশ্যে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে একটি চক্র। সহজ-সরল দেখতে এবং ছিনতাইয়ে বাধা হবে নাএমন একজন চালককে নির্বাচন করে তারা। পরে অটোরিকশায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে চালককে বেঁধে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। সেই ছিনতাই কাজে বাধা দেওয়ায় অটোরিকশার চালক রবিউল ইসলামকেও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।

এ হত্যায় সরাসরি জড়িত তিনজনসহ সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. নাহিদ শেখ (২২), মো. হুমায়ুন (৪০), মো. লিটন খান (৪৫), জুবায়ের হাসান অমি (১৯), শাজিদুল ইসলাম হাসিব (১৯), রাকিবুল (২০) ও জুয়েল (২০)।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদী জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান। তিনি বলেন, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হলে নরসিংদী জেলার পিবিআই ও ক্রাইমসিন টিম ছায়া-তদন্ত শুরু করে। এই হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু না থাকায় চোরাই অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সম্ভাব্য ও সন্দেহজনক কিছু গ্যারেজের প্রতি নজরদারি বাড়ায় পিবিআই। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় রাকিবুলকে। জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবুল ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অটোরিকশাটি নাহিদের মাধ্যমে বিক্রিতে সহায়তা করেছে বলেও জানায়। কিন্তু হত্যার বিষয়ে কোনো কথা স্বীকার করেনি। রবিউলের দেওয়া তথ্যে নাহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাহিদ অটোরিকশাটি বিক্রির কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যে যে গ্যারেজে বেচাকেনা হয়েছিল, তা শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া ওই এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামি হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার এনায়েত বলেন, অটোরিকশাটি যাতে কেউ চিনতে না পারে এ জন্য রঙ, কিছু যন্ত্রাংশ ও মডেল পরিবর্তন করা হয়। অটোরিকশাটি ৩০ হাজার টাকায় লিটন খান কিনেছিলেন। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া নাহিদকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অটোরিকশা ছিনতাই ও রবিউলকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সন্ধান পাওয়া যায়। হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ঘটনার পরে গা-ঢাকা দিলেও নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরাসরি জড়িত তিনজনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, আসামিরা মাদক ও জুয়ার টাকা সংগ্রহের জন্য অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। তারা সহজ-সরল অটোচালক রবিউলকে চিনত এবং তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন বেলা আনুমানিক ২টার দিকে আসামি অমি, নিহাল, হাসিব শিবপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে রবিউলকে পেয়ে তার অটোরিকশা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি ও আড্ডা দেওয়ার জন্য ভাড়া করে। একপর্যায়ে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের সাতপাইকা গ্রামের ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ থেকে ১৫ মিনিট আড্ডা দেয় তারা। আড্ডা শেষে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা বলে আসামিদের দুজন পেছনে এবং একজন সামনের আসনে চালক রবিউল ইসলামের পাশে বসে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গোপনে নিয়ে আসা চাপাতি বের করে হাসিব ও নেহাল রবিউলের হাত-পা জাপটে ধরে। এ সময় অমি চাপাতি দিয়ে বেপরোয়াভাবে গলায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে থাকা ধানক্ষেতে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত