খালেদা জিয়ার মুক্তি

জাতিসংঘের বিবৃতি আদায়ের চেষ্টা বিএনপির

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৩ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবিতে রাজপথের কর্মসূচিতে রয়েছে দলটি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছেন দলটির নেতারা। এ ইস্যুতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চায় দলটি। এজন্য দলটির অন্তত তিনজন নেতা দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। প্রায় দেড় মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গত মাসে দেশে ফিরেছেন দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদও বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করে এই ইস্যুতে।

সূত্রগুলো বলছে, ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জাতিসংঘের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বৈঠকগুলো এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ফলপ্রসূ না হলেও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দলের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। কেননা, এর আগেও এই নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেননি। বরং য্ক্তুরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সহায়তায় বৈঠকের সিডিউল ঠিক করতে হয় তাদের। ফলে অনেক সময় এসব বৈঠক শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।

সূত্রের দাবি, এসব নেতাদের ব্যর্থতার কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাধ্য হয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য করণীয় নির্ধারণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে যোগাযোগ করেন। সেখানে বিএনপির পক্ষে চিঠি দিয়ে সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার গেল বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠান।

হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘আমি তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য আপনার (শেখ হাসিনা) সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই; যাতে তিনি দেশের বাইরে জরুরি ও বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।’

বিএনপির কূটনৈতিক বিষয়গুলো দেখভাল করেন এমন অন্তত দুজন নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, সম্প্রতি বিএনপির কূটনৈতিক বিষয় দেখেন এমন দুজন নেতাকে ইউরোপে একটি দেশের কাছে ভিসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই নেতাদের অনুরোধ রাখেনি দেশটি। স্থানীয় অ্যাম্বাসিই তাদের এই সামান্য অনুরোধ রাখেনি। তাহলে ওই নেতাদের সঙ্গে বিদেশিদের সম্পর্ক কতটুকু? তারা কি শুধু ফটোশুট করতে যান? বিএনপি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যে কতটা পিছিয়ে রয়েছে, এ ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

সূত্রগুলো বলছে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বৈঠকগুলো করেছেন সেখানে ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। ড. মঈন খান এখনো চেষ্টা করছেন। তাকে সহায়তা করছেন শামা ওবায়েদ। তারা কতটুকু সফল হবেন তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে বিএনপির হাইকমান্ডের চাওয়া হচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসায় জাতিসংঘ যেকোনো উপায়ে হস্তক্ষেপ করে। এবং মুক্তি ত্বরান্বিত হয়।

বিএনপির আন্দোলন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা উপেক্ষা করে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলটির কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের ‘বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটি’ ভেঙে দেওয়া হয়। গত ১৫ জুন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটি’। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি নামেও আরেকটি কমিটি করা হয়।

জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য রাজপথের পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এজন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করাসহ একাধিক নেতা দেশের বাইরে রয়েছেন।’

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিতে চান দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা। সূত্রগুলো বলছে, আগামী সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন কর্মসূচি ঠিক হতে পারে। একই সঙ্গে আইনি লড়াই কীভাবে চালানো যায় সেই প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছে দলটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত