নির্বাচনী বিরোধে গুলি করে হত্যা ২ ইউপি চেয়ারম্যানকে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৩০ এএম

খুলনা ও মুন্সীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তারা দুজনই আওয়ামী লীগ নেতা। গত নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ দুজন ইউপি চেয়ারম্যানকে খুন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হালদারকে (৪৫)। তিনি পাঁচগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আগের দিন শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবিকে (৪৮) হত্যা করা হয়। উপজেলার গুটুদিয়া ওয়াপদার মোড়ে এ হত্যাকান্ড ঘটে।

মুন্সীগঞ্জ : পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের আলহাজ ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুর ১টার দিকে ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে ৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দেওয়ান মনিরুজ্জামান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলেনুর রহমান মিলন পান মাত্র ২ ভোট। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হালদার বিজয়ী সভাপতি দেওয়ান মনিরুজ্জামানের পক্ষে ছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলনের সমর্থকরা বর্তমান চেয়ারম্যান সুমনের ওপর চড়াও হন। এ সময় গালমন্দ করার একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে দুপুর ২টার দিকে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। তারা হলেন কাউসার হালদার (৪৫), শেখ নুর হালদার (৪৮) ও নুর হোসেন হালদার (৪০)।

নিহত ইউপি চেয়ারম্যান সুমন হালদার পাঁচগাঁও গ্রামের প্রয়াত পিয়ার হোসেন হালদারের ছেলে। নিহতের স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে।

নিহত ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ইমন হালদার দাবি করেন, শুধু বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের জের ধরেই নয়, গত ইউপি নির্বাচনে ভোটে হেরে যাওয়ার ক্ষোভ মেটাতে তার ভাইকে খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। তার ভাইয়ের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলেনুর রহমান মিলন। সেই পরাজয়ের ক্ষোভ মেটাতেই তার ভাইকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। অভিযুক্ত মিলন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভীন এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি মোল্লা সোহেব আলী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা : স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ছিল। ওই সভা শেষে ৮ নম্বর শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি মোটরসাইকেলে খুলনার বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের গুটুদিয়া ওয়াপদার মোড়ে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় পিঠে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাত সোয়া ১০টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মর্জিনা বেগম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিকে হাসপাতালে আনার পর তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমদ জানান, ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবির পিঠে সাতটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি দলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ কারণে তার ওপর অনেকে ক্ষিপ্ত ছিলেন বলেও তিনি জানান।

ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকান্ত সাহা বলেন, পুলিশের তদন্ত চলছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করাও যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত