‘মৃত্যু সেলে’ ২৪ বছর

সেই শরীফার মামলা আপিল বিভাগের কার্যতালিকায়

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:০৮ পিএম

হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় ২৪ বছর ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) থাকা শরীফা বেগমের মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে। আগামীকালের কার্যতালিকায় ‘মো. আব্দুস  সামাদ আজাদ এবং অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র’ শিরোনামে মামলাটি (ফৌজদারি আপিল নম্বর ৪৬/ ২০১৭) ৭৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে ফাঁসি বহাল থাকার সাড়ে ছয় বছর পর এই আপিল করা হয়। আপিলের সাড়ে তিন বছর পর সবশেষ ২০২১ এর ২৯ ও ৩০ জুন মামলাটি কার্যতালিকায় এলেও সেসময় শুনানি হয়নি। তিন বছর বেশি সময় পর মামলাটি আবারও কার্যতালিকায় এলো।

গত ১ জুলাই দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘ফাঁসির দিন গুনে এক নারীর ২৪ বছর’ শিরোনামে এবং ‘শরীফাকে কেউ মনে রাখেনি’ উপ- শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিন সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেদনটি নজরে নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আপিল মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাস বয়সী মেয়ে সূচী আক্তারকে রেখে ২৬ বছর আগে হত্যা মামলায় শরীফা বেগম কারাগারে যান। ৫৫ বছরের জীবনের প্রায় ২৪ বছরই ‘মৃত্যু সেলে’ থাকা শরীফার মামলার বিচারই এখনো শেষ হয়নি। শরীফার মতো জামালপুরের আবদুস সামাদ আজাদ ওরফে সামাদও একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ২৪ বছর ধরে ফাঁসির সেলে বন্দি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংগঠিত ওই খুনের ঘটনায় ১৯৯৮-এ গ্রেপ্তারের পর ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর বিচারিক আদালতে তার ফাঁসির রায় হয়। সেই থেকে শরীফা ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) বন্দি। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্টে তার এবং সামাদের সাজা বহাল থাকে। এরপর ২১ বছরেও তার আপিল নিষ্পত্তির তথ্য মেলেনি। এই দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকা শরীফার কথা আদালত, কারা কর্তৃপক্ষ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কারও মনে আসেনি। দীর্ঘ সময়েও এই নারী জানতে পারেননি তিনি দোষী না নির্দোষ।

কারা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কারা ইতিহাসে আর কোনো নারী আসামিকে এত দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকতে হয়নি। এত লম্বা সময় (২৬ বছর) কোনো নারী কারাবাসে ছিলেন কি না, সে তথ্যও মেলেনি।

এতে আরও বলা হয়, ২০১৬ থেকে শরীফা আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ফাঁসির সেলে। বিচারিক আদালতে রায়ের পর থেকে ছিলেন পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (এখন কেরানীগঞ্জে)। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামে। দীর্ঘদিন জেলে থাকায় স্বামী মো. ওবায়দুল্লাহ অনেক আগেই অন্যত্র বিয়ে  করেছেন। তিনি শরীফার কোনো খোঁজ নেন না। ছেলে অরিদ মিয়া স্থানীয় একটি বাস পরিবহনে চালকের সহকারীর কাজ করেন। আর্থিক অসংগতি ও মুক্তির সম্ভাবনা নেই মনে করে শরীফার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ কমে গেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত