ইউরোর আগের আসরে ফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড। তাদের সামনে সুযোগ টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার। সেই স্বপ্নের পথে বাধা নেদারল্যান্ডস। তবে ইতিহাসও বাধা ইংল্যান্ডে। কারণ কখনোই টানা দুই আসরে ফাইনাল খেলতে পারেনি ইংলিশরা।
ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে থাকবে ভিন্ন এক আমেজ। ইউরো অভিযানে আসা ইংল্যান্ড দলের দুজন বাদে বাকি সবাই খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল)। আর নেদারল্যান্ডস দলের ২৬ জনের মধ্যে ৭ জনের আছে ইপিএলে অভিজ্ঞতা। অর্থাৎ ইংল্যান্ড দলের অনেকে ক্লাব সতীর্থ হওয়ায় ইংলিশদের গোমরের কিছুটা জানা আছে ভার্জিল ফন ডাইকদের। দুদলের সেমিফাইনালের আগে তাই আলোচনায় এসেছে বিষয়টি।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ডাচ ডিফেন্ডার ফন দে ফেন ইংল্যান্ডের কৌশল নিয়ে বললেন অনেক কথা। তবে, এই ডিফেন্ডার বলছেন মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ‘দুদলের খেলোয়াড়দের মান যদি আপনারা দেখেন, সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, ওই পর্যায়ের ম্যাচও আপনারা প্রত্যাশা করবেন এবং এই ম্যাচে ছন্দ খুবই উঁচু পর্যায়ে থাকবে। আশা করি, ইংল্যান্ডের চেয়ে আমাদের পায়ে বল বেশি থাকবে। ইংল্যান্ডকে বলের জন্য দৌড়াতে হবে। আমার ধারণা, ম্যাচের তীব্রতা অনেক বেশি থাকবে।’
ইংল্যান্ড চলমান ইউরোতে গোল করেছে পাঁচটি। সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে দলটি জিতেছে টাইব্রেকারে। দলের পারফরম্যান্স সমর্থকদের মন ভরাতে পারছে না। তাতে সমালোচিত হচ্ছেন দলটির কোচ গ্যারেথ সাউদগেট। তবে দলের খেলোয়াড়রা এই কোচের সঙ্গেই আছেন। ডিফেন্ডার লুক শ বলেন, তিনি (সাউদগেট) আমাদের নতুন ধাপে নিয়ে গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যা করেছেন, অন্য কোনো কোচ এত সফল ছিলেন না। এখন সামনে আরেকটি সেমিফাইনাল। আমি এবং আমরা ফুটবলাররা তাকে ভালোবাসি।’
দুই মৌসুম আগে লিভারপুলে যোগ দেন কোডি গাকপো। ২৫ বছর বয়সী এই ডাচ ফরোয়ার্ড তিন গোল নিয়ে যৌথভাবে চলতি ইউরোর সর্বোচ্চ গোলদাতা (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত)। গাকপোর বিশ্বাস, ইংল্যান্ড বাধা পেরিয়ে বার্লিনের ফাইনালের সংবাদ সম্মেলনেও থাকবেন তারা। ‘আমরা যে অনেক দূর যাব, এ বিশ্বাস সবসময়ই ছিল। একটা ম্যাচ বাদে (অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-২ গোলের হার) অনুভূতি সবসময় ভালো ছিল। আশা করি, আপনারা আমাদের (সংবাদ সম্মেলনে) শেষবারের মতো দেখছেন না।’ নেদারল্যান্ডস ইউরোতে একবারই ফাইনাল খেলেছিল, ১৯৮৮-তে। সেবার ডাচরা চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল।
এবারের ইউরোতে ৫ ম্যাচে ২ গোল করেছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে কেইন গেল মৌসুমে ৩২ ম্যাচে করেন ৩৬ গোল। ৫ ম্যাচে ২ গোলকে অনেকেই হয়তো খারাপ বলবে না। কেইন ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও এবার দুই গোল করায় সমালোচিত হচ্ছেন। এটি ইংল্যান্ড বলেই হয়তো হচ্ছে। তবে কেইনের পাশে আছেন জাতীয় দলের সতীর্থরা। কঠিন এই পরিস্থিতিতে কেইনের হয়ে কথা বলেছেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আরনল্ড।
আরনল্ড বলেন, ‘ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাওয়া যেকোনো দল হ্যারি কেইন খেলছে না এটা দেখতে চাইবে। সে যেকোনো দলের জন্য হুমকি। বক্সের ভেতরে এবং আশপাশে যেকোনো পজিশনে তার পায়ে বল গেলে, আপনাকে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। সে সব দিক থেকেই ফিনিশ করতে পারে। আমি সব সময় বলি, আমার দেখা বা এক সঙ্গে খেলেছি এমন ফিনিশারদের মধ্যে সেই সেরা।’ ইউরোর গেল আসরে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে গোল করেছিলেন কেইন। আজ তিনি জ্বলে উঠলে ইংল্যান্ডেরই লাভ।
ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার উপলক্ষ। ২০১৯ নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডস ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। আবারও সেই সেমির মঞ্চেই দেখা এই দুদলের। ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস এর আগে ২২ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। ইংলিশরা জিতেছে ৬ ম্যাচে, ডাচদের জয় ৭ ম্যাচে। বাকি ৯ ম্যাচ ড্র হয়। ইউরো আসরে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস। এর আগের দুই দেখাই হয়েছিল গ্রুপ পর্বে। ১৯৮৮-তে জেতে নেদারল্যান্ডস, ১৯৯৬-তে ইংল্যান্ড।
