ভারতীয় গল্প পড়ে ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে ‘প্রতারণা’

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০৮:০০ পিএম

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হবিগঞ্জ পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সমন্বয়ে একটি দল গতকাল মঙ্গলাবার (৯ জুলাই) দুপুর সোয়া দুইটায় সিলেটের একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সোহাগ মিয়া (২৭)। পুলিশের দাবি, এমপিকে ‘হত্যা পরিকল্পনার’ বিষয়ে তথ্য প্রদানকারী করেছিল সোহাগ মিয়া। সে একজন ‘প্রতারক’। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ নাটক সাজিয়েছিল। গ্রেপ্তার সোহাগ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে।

 আজ বুধবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘ডার্ক ওয়েব’ সাইটে থাকা ভারতীয় একজন প্রভাবশালীর জীবনের হুমকি আছে বলে তথ্য দিয়ে একজন প্রতারক অর্থ হাতিয়ে নেয়। ওই গল্প পড়ে সোহাগ একই কায়দায় প্রতারণার জন্য ব্যারিস্টার সুমনকে টার্গেট করেন তিনি। এর ধারাবাহিতকায় প্রথমে সে ব্যারিস্টার সুমনের জীবনের হুমকি আছে বলে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে।

সূত্র জানায়,  চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায়ের কাছে গত ২৮ জুন রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ে সোহাগ প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ব্যারিস্টার সুমনের মোবাইল নম্বর চান। তখন ওসি মোবাইল নম্বর চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে উত্তরে তিনি জানান, ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে জরুরি কথা বলতে চাই। মোবাইল নম্বর না দিলে আত্মহত্যা করবেন। ওসি সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই ব্যক্তিকে মোবাইল নম্বরটি দেননি। এর কিছুক্ষণ পরই সোহাগ হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পাঠান এবং পরে তা ডিলিট করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও একটি মেসেজ পাঠান। এতে বলা হয়, ব্যারিস্টার সুমনের কিছু শত্রু আছে, যারা তার ক্ষতি করতে পারে। এই মেসেজও পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ওসির মাধ্যমে সোহাগ ব্যারিস্টার সুমনের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। তিনি জানান, ৪/৫ জনের একটি টিম তাকে হত্যার জন্য মাঠে নেমেছে। সোহাগের উদ্দেশ্য ছিল হত্যার মিশনের তথ্য জানানোর নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। কিন্তু ব্যারিস্টার সুমন লাইভে গিয়ে ঘটনাটি প্রচার করেন। এছাড়া চুনারুঘাট ও ঢাকার শেরেবাংলা থানায় দুটি জিডি করা হয়। জিডি ও লাইভে প্রচারের খবর পেয়ে সোহাগ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে যায়। যখন তিনি বুঝতে পারেন তাকে ট্র্যাক করা হচ্ছে পরবর্তীতে তিনি সিলেটে আত্মগোপন করেন। পরে হবিগঞ্জ পুলিশ ও সিটিটিসি ইউনিট সমন্বয়ে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে তাকে একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলায় রাজনগর থানায় প্রতারণার মামলা রয়েছে। যা আদালতে রিচারাধীন।

পুলিশ সুপার জানান, সোহাগ কিছুদিন বিদেশে ছিল। সে দুটি বিয়ে করেছে। তার একটি কন্যা রয়েছে। সোহাগ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত