পুরান ঢাকার আগা সাদেক এলাকায় মিরনজিল্লা সুইপার কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ওই এলাকায় ডিএসসিসির (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক ও উৎপল বিশ্বাস।
গত ১০ জুন মিরনজিল্লার বাসিন্দাদের নিয়ে ‘প্রতিবাদ করে উচ্ছেদ ঠেকাল শিক্ষার্থীরা, আতঙ্কে বাসিন্দারা’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ১৩ জুন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মিরনজিল্লায় হরিজনপল্লীর উচ্ছেদের ওপর একমাসের স্থিতাবস্থা দিয়ে রুল দেয়। রুলে মিরনজিল্লার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টে এ আদেশের বিরুদ্ধে ডিএসসিসি চেম্বার আদালতে গেলে আদালত তাতে ‘নো অর্ডার’ দেয়।
ব্যারিস্টার অনিক আর হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার পরও আজ (গতকাল) ডিএসসিসি মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। আমরা দুপুরে এ বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করি।’
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডিএসসিসির অধীনে ওই কলোনির একাংশে ২৭ শতাংশ জমিতে আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ করতে হলে কিছু বাসাবাড়ি ভাঙতে হবে। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ডিএসসিসি কর্মকর্তারা পুলিশ ও উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য যানযন্ত্র (এক্সকাভেটর ও পেলোডার) সমেত ওই কলোনিতে গিয়ে কলোনির বাসিন্দা ও তাদের স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের প্রতিবাদের মুখে ফিরে আসেন।
