বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চুয়াডাঙ্গায় ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ

হাসপাতালে সক্ষমতার ৫ গুণ রোগী, মেঝেতেও নিচ্ছেন চিকিৎসা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৮ পিএম

তীব্র তাপদাহের পর টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চুয়াডাঙ্গায় ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার পাঁচ গুণ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের মধ্যে বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। ফলে চাপ বেড়েছে সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, দুই মেডিসিন ওয়ার্ডে পা ফেলারও জায়গা নেই। মেঝেতেও ঠাঁই মিলছে না রোগীদের। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শুধু জ্বরই নয়, কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীরাও আসছেন প্রতিনিয়ত। 

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে তিন শতাধিক রোগী জ্বর-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত জ্বর। বৃষ্টির কারণে কিছুটা ঠাণ্ডা, আবার বাইরে গরম। ফলে এসময় শিশু-বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল | ছবি: দেশ রূপান্তর

গত এক সপ্তাহে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের দুই ওয়ার্ডে মোট ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৯৬ জন রোগী। ধারণক্ষমতার পাঁচ গুণ রোগী ভর্তি হয়েছেন এই দুই ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই জ্বরে আক্রান্ত রোগী।

হাসপাতালের ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এর মধ্যে বয়োবৃদ্ধ আর শিশুর সংখ্যাই বেশি। একদিকে রোগীদের চাপ, অপরদিকে ভ্যাপসা গরমে রোগী ও স্বজনদের হাসফাঁস অবস্থা।   

নাসরিন আক্তার নামের এক নারী বলেন, এক সপ্তাহ ধরে তার স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন তিনি। কিন্তু জ্বর কমছে না। তাছাড়া ওয়ার্ডে রোগীদের এতো চাপ যে, বাধ্য হয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।  

মরিয়ম খাতুন নামে অপর এক নারী বলেন, তার মা দুদিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (১০ জুলাই) রাতে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ। বেশিরভাগ রোগীই ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন। গরম-ঠাণ্ডার কারণেই এমনটা হচ্ছে। তাই এ সময়ে সবাইকে সচেতনভাবে চলাফেরা করতে হবে।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত