চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ডি-১৫ এন খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর শনিবার(১১এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়ানের ডামোশ গ্রামের অংশে পুন:খাল খনন শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এদিন মন্ত্রী পুন:খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
খাল খনন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, ফরিদপুর পশ্চিম অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পার্লামেন্ট চলছে বিরোধীদল কথা বলছে আমরা তার উত্তর দিচ্ছি এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সরকারি দল ও বিরোধী দল কোন কারণে অন্যায় দুর্নীতিকে যদি প্রশ্রয় দিই পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হয়ে যাবে। এজন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে প্রতিটা কথা ও বাক্য বিনিময়ে।
মন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে খাল খনন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচিটাকে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি একটা খাল খনন নিজে করেছেন, সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সকল পেশার মানুষ মিলে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতাম। সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন তার সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাল খনন শুরু করার পর তিনি নিজেই খোঁজখবর রাখতেন কিভাবে কার্যক্রম চলছে। খাল খনন শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক চাহিদা ছিল। তখন যে সরকার আসতো মানুষ জানতে চাইতো খাল খনন হচ্ছে না কেন। খালের মধ্যে পলি জমে আছে, অবৈধ দখল হয়ে গেছে যার দেখভালের জন্য একটি ডিপার্টমেন্ট আছে। এই খালের জায়গা নিতে হলে ডিসির পারমিশন ছাড়া কারোর পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। গত ১৭ বছরে শাসনকালে এ আইন মানা হয়নি। যে যার মত খালের জায়গা দখলে নিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কারণ সে সময় খাল খনন কর্মসূচি চলমান ছিল। এখন খাল খনন নেই, রপ্তানি নেই, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নাই। খাল খননের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের উন্নয়ন সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরো বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পরে ক্ষমতায় এসেছে বর্তমান সরকার। আমাদের অনেক নেতা গুমের শিকার হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে সফল হয়েছিলাম। অবকাঠামো ও উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য তারেক রহমান ৩১ দফা প্রণয়ন করেছেন। ৩১ দফার মধ্যে তারেক রহমান দেশের মানুষের কথা সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। এজন্য তারেক রহমান বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গার ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার ডি-১৫ এন খাল খনন করা হবে। যার ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে খাল খনন কাজ সম্পন্ন করবে। ৩০ জুন খনন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
