রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাংবাদিক নাদিম হত্যা: বাবু চেয়ারম্যানের মামলা মীমাংসা করবেন এমপি

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৮ পিএম

‘এবারের সংসদ সদস্য মো.নূর মোহাম্মদ সাহেব, তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমার সাথে জেলে অনেকবার কথা হয়েছে। আমার ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের কথা বলেছে। বাবু তুমি বের হয়ে আসো এ মামলা মীমাংসা করে দিব।’ কারাগার থেকে বের হয়ে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নে একটি জনসভায় এসব কথা বলেছেন, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাধুরপাড়ার ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। 

এমন একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বুধবার (১০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে জামিনে জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বক্তব্য দেন মাহমুদুল আলম বাবু।

ওই ভিডিও দেখা যায়, ভিডিওর এক মিনিট দশ সেকেন্ড পর বক্তব্য শুরু করেন চেয়ারম্যান বাবু। শুরুতেই তিনি বলেন, ১৭ জুন আমি অ্যারেস্ট হয়েছিলাম পঞ্চগড় আমার নানা বাড়ি থেকে। আপনারা জানেন, এ মামলায় অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন। উপরে আল্লাহ তালায় জানে কে মেরেছে, কে মেরে ফেলেছে এটা আল্লাহ তালায় ভালো জানে। আপনারা জানেন আমি প্রাক্তন একজন চেয়ারম্যান। আমার সাথে সাংবাদিকদের অনেক ভালো সম্পর্ক। এটা আপনারা অনেকে জায়গায় জানেন। হঠাৎ করে কি কারণে, কি আমার পাপ ছিলো আমি জানি না। এ মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন আমার ছেলে রাজধানী ঢাকার বাড়িধারায় ছিল। সে ওইখানে লেখাপড়া করে। ঢাকা থাকাবস্থায় তাকে দুই নম্বর আসামি দিয়েছে। আপনারাই ভালো জানেন। আপনাদের ঋণ আমি কখনও শোধ করতে পারব না। আমার সাধুরপাড়াবাসী মানুষ আমার কাছে প্রাণের চেয়েও দামী। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমি এক বছর আপনাদের কাছ থেকে দূরে ছিলাম। আমি এক বছরে আমার সাধুরপাড়ার অনেক ঘটনায় শুনেছি। অনেক ক্ষতিও হয়েছে। ডাকাতি করেছে, চুরি করেছে আমার গরীব লোকের উপর নির্যাতন করেছে। টাকা পয়সা খেয়েছে। ভয়ভীতি দেখাইয়া কেউ গরু বেচে, ছাগল বেচে টাকা দিছে। ঘর বেচে টাকা দিছে। আমি পাঁচ বছর আপনাদের কামলা হিসেবে আছি, আড়াই বছর চলে গেছে। বাকী আড়াই আপনাদের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ। এ মামলা বিচারাধীন অবস্থায়, বিচার চলবে। আইনকে আমি শ্রদ্ধা করি। আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি আইনকে সারাজীবন শ্রদ্ধা করে যাব।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা অনেকেই জানেন, আমার রুল জারি হয়েছিল। আমাদের সরকার, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট স্টে ওয়াডার করে দিয়েছে। আমার মামলায় আর কোনো সমস্যা হবে না। আপনারা তো জানেন, জেলখানা ভালো জায়গা না। আমি দীর্ঘ এক বছরের উপরে ছিলাম। আমি আসলে অনেক কষ্ট করেছি। অনেক গরীব মানুষ দুইশ, তিনশ টাকা দিয়ে আমাকে দেখে আসছে। আমার এ কথা আমি সারাজীবন মনে রাখবো। আমার এ জনগণ জেলাখায় যদি পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকলে তার সাড়ে চার লাখ টাকা সাধুরপাড়ার গরীব মানুষ দিয়েছে। আমি সেই সাধুরপাড়ার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং পরিশেষে আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করি, আপনারা সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন। 

আরেকটু কথা বলার সময় চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এবারের মাননীয় সংসদ সদস্য মো.নূর মোহাম্মদ সাহেব, উনি অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমার সাথে জেলে অনেকবার কথা হয়েছে। আমার ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের কথা বলেছে। বাবু তুমি বের হয়ে আসো এ মামলা মীমাংসা করে দিবো। আপনারা শুধু দোয়া করবেন আমি যেন আবার এক দেড় বছর আগে যে চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই চেয়ারম্যান হিসেবে চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি দূর করতে পারি।’

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাংবাদিক হত্যা মামলা মীমাংসা করে দিবেন। এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে জামালপুরের সাংবাদিক ও সচেতন মানুষের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী ও মামলার বাদী মনিরা বেগম বলেন, ‘বাবুর জামিন হওয়াতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। সে একজন উশৃঙ্খল লোক। এটা নিয়ে আমরা ভয়ের মধ্যে রয়েছি। আর এমপি সাহেবের সাথে আমার মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। বাবুর সাথে কি কথা হয়ছে তা আমি বলতে পারবো না।’

প্রেসক্লাব জামালপুরের সদস্য ও জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,  ‘সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের সাথে সাংবাদিক হত্যা মামলার প্রধান আসামির ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যা ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখলে বুঝা যায়। ক্ষমতাসীন লোকের প্রভাবে বিচার কাজ যেন প্রভাবিত না হয় রাষ্ট্রের কাছে এমনি চাওয়া। ওই নৃশংস সাংবাদিক হত্যা মামলায় সারদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিলো। সেই মামলার সঠিক বিচার পাওয়া এখন সময়ের দাবি।’ 

এ প্রসঙ্গে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘তার সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত