ক্যারিবীয়দের শেষ উইকেটটি পড়ার মুহূর্তে লর্ডসে থাকা একটি ক্যামেরার লেন্স নিবদ্ধ ছিল শুধু জেমস অ্যান্ডারসনের ওপর। অ্যান্ডারসন তাকিয়ে দেখলেন ক্যাচটি উঠল, বাউন্ডারিতে থাকা বেন ডাকেট সেটি যখন মুঠোয় ভরলেন, এক পসরা হাসি ফুটে উঠল অ্যান্ডারসনের মুখে। দৌড়ে গেলেন গাস অ্যাটকিনসনকে শুভেচ্ছা জানাতে। ওই পর্বটি শেষ হতেই তার মনে পড়ে গেল এই শেষ। ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। ওই মুহূর্তটুকু ছিল অদ্ভুত আবেগে মেশানো। অ্যান্ডারসনের চোখ টলমল, অথচ ঠোঁটজুড়ে হাসি। শেষবারের মতো বিজয়ী ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়ে মাঠ ছাড়লেন জেমস অ্যান্ডারসন; ‘জিমি’, ক্রিকেট বিশ্বের গতি ও সুইং জগতের কিংবদন্তি। ক্রিকেটের সবচেয়ে কুলীন সংস্করণ টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে ইতিরেখা টানলেন ২১ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারের।
৭০৪লাল বলের ক্রিকেটে জিমি অ্যান্ডারসনের উইকেটসংখ্যা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ১১৪ রানের ব্যবধানে হারানো ম্যাচটিতে ৫৮ রানে ৮ শিকার হয়ে থাকল খেলোয়াড় হিসেবে নামের পাশে শেষ সাংখ্যিক পরিচয়। টেস্টে তার চেয়ে বেশি উইকেট রয়েছে কেবল দুই কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরন ও শেন ওয়ার্নের। আর পেসারদের নিয়ে তুলনা করতে গেলে তার পরের অবস্থানে থাকা স্টুয়ার্ট ব্রড পাক্কা ১০০টি উইকেটে পিছিয়ে জিমির চেয়ে। এটিই প্রমাণ করে জিমির এ অর্জন কী পরিমাণ সম্মানের। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায়, শুধু শচিন টেন্ডুলকার এগিয়ে আছেন জিমির চেয়ে। একজন পেসার হিসেবে বয়স ৩৫ পেরোনোর পর ২২৪ উইকেট ঝুলিতে ভরেছেন জিমি, যা অকল্পনীয়।
ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের ক্রিকেটাররা গার্ড অফ অনার দেন জিমিকে। ম্যাচের আগে বলেছিলেন, তিনি আবেগকে সংবরণ করবেন। কথা রেখেছেন অ্যান্ডারসন। মনের ভেতর ঝড় বয়ে গেলেও তাকে ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি। সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়ে হাসিমুখেই মাঠ ছেড়েছেন। গ্যালারিতে বসা তার স্ত্রীর চোখ তখন ছলছল করছিল। গোটা গ্যালারি দাঁড়িয়ে তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মাধ্যমে বিদায় জানায় ইংলিশ পেস কিংবদন্তিকে।
ম্যাচ শেষে জিমি বলেন, ‘অবশ্যই আজকের সকাল ছিল খুব আবেগের, যেভাবে দুই দল ও ভক্তরা প্রতিক্রিয়া দেখাল, তা ছিল বিশেষ। কিন্তু হ্যাঁ, আমি এখনো (কান্না) ধরে রাখতে পারছি। ২০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলায় আমি সত্যিই গর্বিত, এটা দারুণ প্রচেষ্টা, বিশেষ করে একজন ফাস্ট বোলারের জন্য।’
৪১ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন জীবনের শেষ টেস্টে ছুঁয়েছেন ৫০ হাজার ডেলিভারির মাইলফলক। একটা আফসোস তার ভক্তদের থেকে গেল। আর পাঁচটি উইকেট পেলেই ছাড়িয়ে যেতেন ৭০৮ উইকেট নেওয়া অজি কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নকে। সেটা না হলেও তিনি যা কীর্তি গড়েছেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।
