দেশে সরকারি পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ এবং মা-শিশু স্বাস্থ্য ও কিশোরী প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে মা ও শিশুদের এসব সামগ্রী সরবরাহ করে। বর্তমানে ৯ ধরনের উপকরণ ও ওষুধ কোনো উপজেলা গুদামে নেই। গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আট ধরনের সামগ্রীর মজুদ শূন্যপ্রায়। এ ছাড়া অন্যান্য সামগ্রীর মজুদও চাহিদা ও সরবরাহ অনুপাতে কম।
গত পাঁচ মাস দেশের কোনো উপজেলায় জন্মনিরোধক ইনজেকশন (ডিপো-প্রোভেরা) নেই। অথচ প্রতি মাসে প্রায় ৯ লাখ ভায়ালের বেশি ইনজেকশনের চাহিদা রয়েছে। নেই ক্লিনিক্যাল গর্ভনিরোধক উপকরণ ইমপ্ল্যানন। মাসে এ উপকরণের চাহিদা ৩৩ হাজারের বেশি।
গত এক বছর নেই নরমাল ডেলিভারি কিট। এ প্যাকেটে নিরাপদ প্রসবের জন্য পাঁচ ধরনের উপকরণ থাকে। এগুলো হলো সাবান, প্লাস্টিক শিট, নাভির ক্লিপ, সুতা, নাভি কাটার ব্লেড ও তুলা। এ কিট সংক্রমণজনিত কারণে মা ও শিশুমৃত্যু রোধ করে।
নিরাপদ স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে ব্যবহৃত দুটি ইনজেকশন ‘ম্যাগনেশিয়াম সালফেট’ ও ‘অক্সিটোসিন’ নেই গত পাঁচ মাস ধরে। এর মধ্যে ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ইনজেকশন একলাম্পসিয়া রোগে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বাদের খিচুনি প্রতিরোধে এবং অক্সিটোসিন ইনজেকশন অন্তঃসত্ত্বার প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে, প্রসবের গতি বাড়াতে ও প্রসবের পর রক্তপাত বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়।
নেই আয়রন-ফলিক অ্যাসিড পিল। গত বছর জুন থেকেই এ উপকরণ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে অধিদপ্তর। এটি গর্ভাবস্থায় নারীদের জন্য ব্যবহৃত খাবার বড়ি। গর্ভে থাকা শিশুর শারীরিক ত্রুটি নিরসন করে। নেই অন্তঃসত্ত্বাদের গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত অ্যান্টিনেটাল কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন। গত এক বছর ধরেই এ উপকরণ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দেরিতে প্রসবের ঝুঁকিতে থাকা মায়েদের প্রসবপূর্ব অ্যান্টিনেটাল কেয়ারের অংশ হিসেবে এই ইনজেকশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি গর্ভে থাকা শিশুর শ্বাসকষ্ট ও শিশুমৃত্যু রোধ করে।
প্রসবসহ মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তুলা (১০০ গ্রাম) এবং অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে ত্বক জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত অ্যান্টিসেপটিক পোভিডোন আয়োডিন সলিউশন (বোতল) নেই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে
জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুদ শূন্য