ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার 

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৭ পিএম

ফরিদপুরের আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন টিটনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় জয়নুল আবেদিনকে ফরিদপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল রবিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী। এর আগে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বরাবর একটি অভিযোগ দেন তারা। একইসঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকেও। পরে লিখিত অভিযোগের একটি কপি জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেয় শিক্ষার্থীরা। 

অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে বিদ্যালয়টিতে যোগদানের পর থেকে গত ১৪ বছর ধরে ওই স্কুলের ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নসহ ছাত্রীদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন ওই শিক্ষক। নিজের ও পরিবারের মানসম্মানের ভয়ে এতদিন মুখ খোলেননি শিক্ষার্থীরা। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হবার পর থেকে গত একযুগের বেশি সময় ধরে বিশেষ করে দশম শ্রেণীর ছাত্রীরা টিটনের এমন লালসার স্বীকার হয়েছেন। শ্রেণিকক্ষেই ছাত্রীদের গায়ে হাত দিতেন তিনি। নিজ বাসাই প্রাইভেট কোচিং করানোর সময় শিক্ষার্থীদের একাকী পেলে ছাত্রীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, ফেসবুক মেসেঞ্জারে উত্তেজনাপূর্ণ আলাপচারিতাসহ পর্ণ ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ফাঁদে পড়ে অনেক ছাত্রী তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বাধ্য হয়েছেন এমন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, হেড স্যার ক্লাসে পড়ানোর সময় বিভিন্ন ইস্যু বের করে আমাদের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতো। আমরা এগুলা কাউকে বলতে পারি না। আমাদেরকে মেসেঞ্জারে বিভিন্নভাবে খারাপ ছবি দিয়ে লোভ লালসা দেখিয়ে আমাদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টাও করেছে যার প্রমাণ আমরা দেখাতে পারব। একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে তার এমন আচরণের বিচার আমরা কোথায় পাবো? 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্ক পিতা-মাতা এবং সন্তানের সম্পর্কের মত যে সব ঘটনা ঘটেছে তা আসলে শিক্ষক হিসাবে আমরা বলতেও লজ্জা পাই। প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণ আমরা জানলেও কিছু বলতে পারিনা কারণ আমরা তার অধীনে চাকুরী করি, প্রধান শিক্ষক অনেক প্রভাবশালী। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা। 

সচেতন নাগরিক কমিটি এবং ফরিদপুর জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি শ্রিপ্রা রায় জানান, এই প্রধান শিক্ষকে বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগটি গুরুতর হওয়ায় অনতিবিলম্বে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত করা উচিৎ। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে, তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

তবে জেলে থাকায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন টিটনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত