সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধে সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। জনস্বার্থে এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ নির্দেশনা দেয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদেশ বাস্তবায়ন করে ছয় মাস অন্তর আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সিলেটে পাহাড়-টিলা রক্ষায় বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও জনস্বার্থ পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটা নিয়ে গত ১১ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিবেদনটি যুক্ত করে প্রতিকার চেয়ে চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশন’। আবেদনের পক্ষে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে টিলা কাটা চলছেই। ব্যক্তি মালিকানাধীন, খাস বা বন বিভাগের মালিকানাধীন টিলাও কাটা হচ্ছে। টিলা কাটায় পিছিয়ে নেই সরকারি সংস্থাও। পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বিভাগের চার জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৮৭৫টি টিলা আছে। এসব টিলার আয়তন ৪ হাজার ৮১১ একর। এর বাইরে আড়াই দশকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টিলা কেটে ফেলা হয়েছে।
ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিলা কাটার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কিছু ব্যবস্থা নিলেও প্রশাসনের একটি অংশের উদাসীনতা ও মদদে অবাধে টিলা কাটা হচ্ছে, যা পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা এসব বিষয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত তদারকির নির্দেশনাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে।’
