‘তোদের পিতাকে হত্যা করেছি, এবার তোদের পরিণতি একই হবে’

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৮:১১ পিএম

পিতা হত্যার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবার, এমন অভিযোগ করে মঙ্গলবার ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন দাগনভুঞা উপজেলার আমানত উল্যাহপুর গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন রাজু।

রিয়াজ উদ্দিন রাজু বলেন, মামলা দায়েরের পর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোনও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। অপরিচিত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ির সামনে মহড়া দিতে দেখা যায়। অজ্ঞাতনামা মুখোশ পরা ব্যক্তিরা অনেক সময় বাড়ির সামনে এসে বলে, তোদের পিতাকে হত্যা করেছি তো কি হয়েছে, এবার তোদের পরিণতিও পিতার মতোই হবে। এমতাবস্থায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৯ মে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন একদল দুর্বৃত্ত দাগনভূঞা হাসপাতাল রোডের বাসভবনে হামলা চালায়। তারা পানি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ৯টি বৈদ্যুতিক মিটার খুলে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আমার পিতা আবদুল গফুরকে তারা বুকে, পিঠে, পেটে ও তলপেটে কিল, ঘুষি, লাথি দিয়ে আহত করে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে বার বার আঘাত করে। একই সময় তারা আমাদের পরিবারের সকল সদস্য ও ভবনের ভাড়াটেদের ওপরও নির্যাতন চালায়। ঘটনার দিন রাতের বেলায় আমার পিতা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার পায়ুপথে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার একদিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে গত ১ জুন সকালে তিনি মারা যান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় দাগনভুঞা থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণে অপরগতা জানায়। বাধ্য হয়ে আমরা ফেনীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা লোকমানের আদালতে এজাহার দায়ের করি। আদালত এজাহার আমলে নিয়ে এ কে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণে দাগনভুঞা থানাকে নির্দেশ দেয়। পরে ৪ জুন থানায় মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু হয়। মামলার এক নম্বর আসামি রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদীন মামুন। এ ছাড়া পৌর এলাকার আমান উল্যাহপুর এলাকার নির্মল সাহার ছেলে চয়ন সাহা ও দহন সাহা, রুহিনী সাহার ছেলে নির্মল সাহা, জগতপুর এলাকার আবদুল ওহাবের ছেলে আইয়ুব আলী, কালা মিয়ার ছেলে ছেরাজুল হক প্রকাশ হকসাব ও রাজাপুরের কোরাইশমুন্সি বাজার সংলগ্ন আবদুল নবী গ্রামের খায়েজুল হকের ছেলে ইকবালকে আসামি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নিহত গফুরের বড় ছেলে রাকিব হোসেন, বোন ছেমনা আক্তারও বিবি রাবেয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত