প্রধানমন্ত্রী বললেন

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৫:১৬ এএম

দেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের মহান আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের সব সময় সবার কাছ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়া উচিত, যাতে করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তারা গর্ববোধ করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সব সময় সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। তাদের সম্মানটা সর্বোচ্চ থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার সকালে তার কার্যালয়ের (পিএমও) হলে ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৪’-এর নির্বাচিত ফেলোদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করা জাতি, তাই বিশ্ব দরবারে বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করেই চলব। সেভাবেই আমাদের গড়ে উঠতে হবে। সব থেকে বড় কথা, যারা মুক্তিযোদ্ধা, তাদের কথাটা মাথায় রাখতে হবে। জাতির পিতা যে আহ্বান করেছিলেন “যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।” সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরিবার-সংসার সবকিছু ছেড়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে। তাদের সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করে, শত্রুকে পরাজিত করে আমাদের বিজয় এনে দিয়েছেন। কাজেই তাদের সব সময় সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। তাদের সম্মানটা সর্বোচ্চ থাকবে। একটা সময় এই মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিল এবং আমি সরকারে আসার পর থেকেই তাদের সব রকম সহযোগিতা করছি ও করে যাচ্ছি।’ খবর বাসসের।

দলমত-নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধারা যেন সম্মানিত হন, সে কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গর্ব করে যেন তারা বলতে পারেন আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমার মতামতের সঙ্গে না-ও থাকতে পারে, আমার দলে না-ও থাকতে পারে। কিন্তু তারপরও তিনি মুক্তিযোদ্ধা। কাজেই আমার কাছে সবাই সম্মানিত। আর সেই সম্মানটা যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ তাদের দেবে, সেটাই আমরা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ অর্জনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে এটি যেন কেউ বন্ধ করতে না পারে, সে জন্য ট্রাস্ট ফান্ড করে এর জন্য স্থায়ী বন্দোবস্ত করারও ঘোষণা দেন অনুষ্ঠানে। কেননা ১৯৯৬-পরবর্তী তার সরকারের দেওয়া ফেলোশিপ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিলে বিদেশে তাদের অনেক দুরবস্থায় পড়তে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যায়ে ৩৯ ও পিএইচডি পর্যায়ে ১১ জনকে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে; যার মধ্যে ৩৭ জন মাস্টার্স ডিগ্রি ও ১১ জন পিএইচডি ফেলোকে প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর করেন।

এ পর্যন্ত বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০৮ জন মাস্টার্স ফেলো এবং ১১৬ জন পিএইচডি ফেলোকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫ জন মাস্টার্স ফেলো এবং ২৬ জন পিএইচডি ফেলো তাদের ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের কার্যক্রমের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল লতিফ স্বাগত বক্তব্য দেন। ফেলোশিপ লাভকারী কয়েক শিক্ষার্থীও অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা দিনবদলের সনদ বাস্তবায়ন করে আমরা দেশকে জাতির পিতার রেখে যাওয়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছি, যা ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে। সে সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং আসন্ন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই আমাদের উপযুক্ত নাগরিক ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। সে জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যেখানে জনশক্তি, গভর্নমেন্ট, ইকোনমি এবং সোসাইটিও  স্মার্ট হবে এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা জিনিস দেখেছি, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা সব থেকে মেধাবী। তাদের শুধু সুযোগটা করে দেওয়া আর সেটাই আমাদের করতে হবে এবং সেটাই করে দিতে চাই। আর সে জন্যই এই প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপটা আমরা প্রবর্তন করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এই ফেলোশিপটাকেও একটা ট্রাস্ট ফান্ড করে, আইন করে দিয়ে যাব যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এটা বন্ধ করতে না পারে। এটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলে যে বিপদে পড়ে, সেই বিপদটা আমি নিজে দেখেছি। অনেককে আমরা নিজেরা আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ করে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে তারা যেন পড়াশোনা সম্পন্ন করে আসতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করেছি। কিন্তু এটা করতে গিয়ে যারা চাকরিজীবী ছিলেন, তাদের চাকরিও চলে যায়, বিএনপি তাদের চাকরি বাতিল করে দেয়। এবার আমরা যে ফেলোশিপটা দিলা,ম এটা চালু রাখতে গেলে ৫ হাজার কোটি টাকার একটা ফান্ড লাগে, আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকেও আমরা স্কলারশিপ দিচ্ছি বা অন্যান্য ক্ষেত্রেও আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত