কোটা আন্দোলনের দাবির সফল বাস্তবায়নে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ‘সর্বাত্মকভাবে রাজপথে’ থাকার কথা জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এ কথা জানান। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সমাবেশে জোটের নেতারা বলেছেন, কোটাব্যবস্থার যুক্তিসংগত সংস্কারের দাবি মানার ঘোষণার পরিবর্তে সরকারের উসকানিমূলক আচরণ ও বক্তব্যে এ সংকট তৈরি হয়েছে। মন্ত্রীদের নির্দেশেই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এ হামলা করেছে।
ছাত্রদলের পাশে থাকার ঘোষণা: কোটা আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ‘কটূক্তি’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রদল।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫ জুলাই একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আজ (গতকাল) থেকে কোটা প্রথা বাতিলের আন্দোলনে সবসময় মাঠে থেকে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল আন্দোলনরত সব শিক্ষার্থীকে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার মূল উৎস অর্থাৎ অবৈধ ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সমাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানাচ্ছে।’
কোটা আন্দোলনের ছাত্রদল রাজপথে থাকবে কি না, জানতে চাইলে রাকিব বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনে ব্যানারে যেদিন থেকে সভা-সমাবেশ শুরু করছে তখন থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের পাশে রয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে এ আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু বরাবরের মতো অবশ্যই তাদের পাশে থাকব।’
কীভাবে আছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা নিউজ করেছেন, শহীদুল্লাহ হল ও কার্জন হলে হামলা হয়েছে। সেখানে ছাত্রদলের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ছিল। আপনাদের মাধ্যমে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, ছাত্রদল ক্রেডিট নিতে চাচ্ছে না। আমরা চাই, এই যৌক্তিক আন্দোলনের শেষ পরিণতি হোক।’
কেন সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছে না জানতে চাইলে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় সংসদের ব্যানারে নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সেটাতে আন্দোলন ভিন্ন খাতে চলে যাবে। সেজন্য আমাদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারেই সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করবে। এতে কে কী বলল আমাদের কিছু আসে যায় না। আমরা আমাদের মতো করে তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি, সর্বাত্মকভাবে তাদের পাশে রয়েছি, সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকব।’
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের প্রতি ‘ঘৃণা ও ধিক্কার’ প্রকাশ করেন ছাত্রদল সভাপতি।
গত কয়েক দিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ ‘ডোর টু ডোর’ গিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের টর্চার করেছে, ‘রুম টু রুম’ গিয়ে টর্চার সেলে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁর মোড় ঘুরে নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ : দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা ‘কোটা’ সংস্কারের ন্যায্য আন্দোলন দমনে সরকারের এ সন্ত্রাসী পদক্ষেপ ও সন্ত্রাসীদের রুখে দাঁড়াতে সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল রাজধানীর পুরানা পল্টনে সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
