কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষে চোখে আঘাত পাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, হাতাহাতির ফলে আহত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়নি। ছররা গুলিতে আহত রোগীর সংখ্যা বেশি। বেশিরভাগ রোগীর কর্নিয়া ও কর্নিয়ার পাশে যে সাদা অংশ সেখানে আঘাত লেগেছে।
ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, বেশিরভাগ রোগীর কর্নিয়া ও কর্নিয়ার পাশে যে সাদা অংশ সেখানে আঘাত লেগেছে। রোগীদের আঘাতের যে ধরন, সেটার ওপর নির্ভর করবে তার ভবিষ্যৎ। ফলোআপ শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। একেবারে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে অর্থাৎ দৃষ্টিশক্তি চলে গেছে এমন রোগীও আছে বলে জানান পরিচালক।
তিনি বলেন, ‘হাতাহাতির ফলে আহত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়নি। ছররা গুলিতে আহত রোগীর সংখ্যা বেশি। এইধরনের রোগীর চোখের ভেতর গিয়ে ছররা গুলি যদি রেটিনায় আঘাত করে, অনেক সময় দৃষ্টি ফিরে আসে না। আবার যদি এ ধরনের গুলি রেটিনার মাঝখানে গিয়ে বসে থাকে বা আঘাত করে বের হয়ে যায়, তখন আংশিক দৃষ্টিহীনতা দেখা দেয়। চিকিৎসা করতে করতে অনেক সময় দৃষ্টি ফিরে আসে। এজন্য আমরা সবাইকে ফলোআপ চিকিৎসা নিতে বলেছি। ছয় সপ্তাহ পর চোখের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে। কারণ ছররা গুলির আঘাতে চোখের ভেতর হেমোরেজ বা রক্তক্ষরণ হয়। চোখের ভেতর প্রদাহ হয়। এসব কারণে ঠিক কী পরিমাণ রোগীর আংশিক বা পুরো দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, তা ফলোআপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।’
পরিচালক জানান, আন্দোলনে আহত রোগীদের সবাইকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেশি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের কারণে রোগীদের বাইরে থেকেও ওষুধ আনতে হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১০-১২ জন।
প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় চোখে আঘাত পেয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে গত ১৭ জুলাই (বুধবার) থেকে গত ২৩ জুলাই (মঙ্গলবার) পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এসেছেন ৪২৯ জন। তাদের মধ্যে ভর্তি করা হয়েছে ৩২৩ জনকে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে ২৯১ জনের। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০-১২ রোগী।
