আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেননি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মতে, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করার ‘সক্ষমতা’ কমলার নেই।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার দৌড়ে কমলা হ্যারিস এগিয়ে যাওয়ায় বারাক ওবামা হতাশ হয়েছেন। তিনি মনে করেন, কমলা কোনোভাবেই জয়ী হতে পারবেন না।
গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। ৮১ বছর বয়সী এ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে দলের প্রার্থী করার সুপারিশ করেছেন।
সোমবার ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে হ্যারিসের নাম ঘোষণা করেন প্রাক্তন মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। এর আগে হ্যারিসের নাম ঘোষণা করেছিলেন বিল ক্লিন্টন, হিলারি ক্লিন্টনসহ একাধিক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট।
এছাড়া রয়টার্স/ ইপসসের নতুন পোলেও এগিয়ে আছেন কমলা। সেই পোলে ট্রাম্প পেয়েছেন ৪২ শতাংশ ভোট, কমলার ঝুলিতে ৪৪ শতাংশ ভোট। গত সপ্তাহের পোলেও ট্রাম্পকে টক্কর দিয়েছিলেন কমলা। সেবার স্কোর ‘টাই’ হয়। দুজনেই পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট।কিন্তু তারপরও বাইডেন পরিবারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, “ওবামা খুব হতাশ হয়ে আছেন কারণ তিনি জানেন হ্যারিস জিততে পারবেন না।”
তিনি বলেন, “ওবামা জানেন তিনি (হ্যারিস) অযোগ্য, এই সীমান্ত জার কখনো সীমান্ত পরিদর্শন করেননি, বলেছেন সব অভিবাসীর স্বাস্থ্য বীমা থাকা উচিত। তার সামনে যে স্থল মাইনগুলো আছে সেগুলো যাচাই করতে পারেন না তিনি। যখন আপনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তখন এমন কিছু থাকবে যা আপনি বলতে পারবেন অথবা পারবেন না।”
তিনি জানান, বাইডেনকে নির্বাচনি দৌড় থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ওবামা আর অভিনেতা জর্জ ক্লুনি বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে যে নিবন্ধ লিখেছিলেন তা ওই পরিকল্পনার অংশ ছিল।
যখন আগামী মাসে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তখন অ্যারিজোনার সেনেটর মার্ক কেলিকে প্রার্থী তালিকার শীর্ষে দেখতে চান ওবামা। তিনি বলেন, “ওবামা ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন, কিছুই তার পথে যায়নি, এ কারণেই তিনি হ্যারিসের প্রতি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থনে যোগ দিচ্ছেন না।”
ডেমোক্র্যাট নিয়ম অনুযায়ী, রানিং মেট হলেও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে সবুজ সংকেত পাবেন না কমলা। নতুন করে মনোনয়ন জমা দিতে হবে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী ডেমোক্র্যাটদের। সেই নামগুলো নিয়ে আলোচনা হবে ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কনভেনশনে।
আগামী মাসে শিকাগোতে এই কনভেনশন হবে বলে জানা গিয়েছে। দলের নানা স্তরের ৩ হাজার ৯০০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন এই কনভেনশনে। পছন্দের প্রার্থীদের বেছে নেবেন ৩২০০ জন প্রতিনিধি। তারা যদি বেছে নিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে ভোট দেবেন বাকি ৭০০ জন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় বংশোদ্ভুত কমলাকে কি মার্কিন রাজনীতিবিদরা প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বেছে নেবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মার্কিন কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর ভাষণ, বাইরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ